পরমাণু চুক্তি মানবে না ইরান

|

কাসেম সোলাইমানি হত্যার জেরে কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। এখন থেকে পারমাণবিক চুক্তির সীমা আর মেনে চলবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে তারা। রোববার রাজধানী তেহরানে মন্ত্রিসভার এক অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেয় ইরান।

এক বিবৃতিতে তেহরান বলেছে, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির সীমা আর মেনে চলবে না তারা। পরমাণু উপকরণ সমৃদ্ধকরণ, মজুদ, গবেষণা ও উন্নয়নের কাজে আর কোনো সীমাবদ্ধতা তারা রাখবে না যেটি এতদিন রেখে আসছিল।

বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় জেনারেল কাসেম সোলাইমানি মারা যাওয়ার পর থেকে ওই অঞ্চলে এখন তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর মধ্যে পরমাণু চুক্তি থেকে ইরানের বেরিয়ে যাওয়া ও ইরাকি পার্লামেন্ট কর্তৃক মার্কিন সেনাবাহিনী সরিয়ে নেয়ার প্রস্তাব পাশে সেখানের উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

২০১৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রসহ ৬ রাষ্ট্রের পরমাণু চুক্তি হয়। বাকি রাষ্ট্রগুলো হলো- যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন। চুক্তির মূল বিষয় ছিল, ইরান পরমাণু কার্যক্রম সীমিত রাখবে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি কমিশন ইরানের যেকোনো পরমাণু স্থাপনায় যেকোনো সময় পরিদর্শন করতে পারবে। বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

এ চুক্তির প্রথম ব্যত্যয় ঘটান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০১৮ সালে এ চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ান তিনি এবং বলেন তিনি পরমাণু কর্মসূচি কমিয়ে আনা ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি স্থগিত করতে ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে বাধ্য করবেন। তখন থেকেই ইরান তার এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে এবং ধীরে ধীরে পরমাণু চুক্তি বিষয়ে দেয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসতে থাকে।

রোববারই ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ঘোষণা দেয় যে, তারা ২০১৫ সালের চুক্তির আলোকে পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার প্রতি আর কোনো শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবে না। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর তো তারা সেখান থেকে বের হয়ে আসারই ঘোষণা দিলো।

ইরান সবসময় নিজেদের পরমাণু কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ দাবি করে আসলেও তারা পরমাণু বোমা বানাতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে। ২০১৫ সালের আগে ইরানের ইউরেনিয়ামের ভালো মজুদ ছিল, যা দিয়ে অন্তত আট থেকে দশটি বোমা বানানো যেতো বলে দাবি করেছিল হোয়াইট হাউজ।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত ইউরেনিয়াম থাকলে পরমাণু বোমা বানাতে ইরানের দু থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে।


সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply