‘সন্ত্রাসী সোলাইমানির মৃত্যুতে আমি শোকাহত নই’

|

ইরাকের বাগদাদে মার্কিন হামলায় নিহত ইরানি জেনারেল কাসেম সুলাইমানির সমর্থনে ইরানের রাস্তায় হাজারো মানুষ নেমে এসেছেন শোক প্রকাশ করতে। ইরাকেও গতকাল শনিবার তার জানাজায় অংশ নিয়েছেন হাজারো মানুষ। তারা মিছিল দিয়েছেন আমেরিকার ওপর প্রতিশোধ নেয়ার পক্ষে। সামাজিক মাধ্যমেও অনেকেই সোলাইমানিকে ‘হিরো’ অভিহিত করে তার হত্যার জবাবে ইরানে পাল্টা আঘাত কামনা করছেন।

অন্যদিকে সোলাইমানির মৃত্যুতে এই ইরাকেই উল্লাস মিছিল করেছেন অনেক মানুষ। তেমন ।ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। সিরিয়ার ইদলিবের রাস্তায় মিষ্টি বিতরণের ধুম পড়েছিলো গত দুই দিন ধরে। এ নিয়ে খবর ও ছবি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে। স্থানীয় তাদের খুশি কারণ সোলাইমানি মারা গেছেন।

ইরানিদের অনেকেও নিজেদের খুশি লুকিয়ে রাখছেন না এই জেনারেলের মৃত্যুতে। টুইটারে ট্রেন্ডিং হয়েছে হ্যাশট্যাগ #TnxPOTUS4SoleimaniI. তাতে দেখা যাচ্ছে, অসংখ্য ইরানি নিজেদের উল্লাস প্রকাশ করছেন নিজেদেরই এক সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুতে।

এই হ্যাশট্যাগে মূলত সোলাইমানিকে হত্যার কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ দেয়া হচ্ছে।

সোলাইমানির মৃত্যুতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি ৩ দিনের শোক ঘোষণা করেছেন। টুইটারে শাহীন নাজাফি নামের একজন ইরানি নাগরিক আয়াতুল্লাহর এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে লিখেছেন, “নভেম্বর মাসে নিহত তরুণদের জন্য কতদিন জাতীয় শোক ঘোষণা করা হলো?”

শাহীন এখানে তরুণ বলতে বুঝাতে চেয়েছেন গত নভেম্বর মাসে ইরানের রাস্তায় বিক্ষোভ করার সময় সরকারি বাহিনীর হাতে নিহত অন্তত ৩০৪ জন বিক্ষোভকারীকে। তারা গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, সরকারের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছিলেন।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারনেশনাল জানিয়েছে, ওই বিক্ষোভে অন্তত ৩০৪ জন মানুষকে সরকারি বাহিনী হত্যা করেছে।

বেহনাম ঘালাম নামে একজন টুইটারে লিখেছেন, “সিরিয়ায় হাজার হাজার এবং ইরাকে শত শত মানুষ হত্যা এবং ইরানের ভেতরে অর্থনৈতিক দুরাবস্থার জন্য সোলাইমানি দায়ী।” সোলাইমানির মৃত্যুতে ঘালাম আরও লিখেছেন, “আমি খুশি, আমি ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের জন্য খুশি।”

প্রবাসী ইরানিদের অনেকেও খুশি সোলাইমানির মৃত্যুতে। যুক্তরাষ্ট্রের লস এনজেলেস প্রবাসী নাসার ইঞ্জিনিয়ার নওশিন মেশকাতি জন্মেছিলেন ইরানে। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।

তিনি সিবিএস নিউজকে বলেছেন, “একজন সন্ত্রাসী তার প্রাপ্য পেয়েছে এটা খুব খুশির বিষয়। দেশের ভেতরে এবং বাইরে বহু সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনাকারী হলেন সোলাইমানি। ফলে ধারণা করতে পারেন তার মৃত্যুতে মানুষজন কতা খুশি হয়েছেন। তিনি শুধু কিছু মার্কিন নাগরিক হত্যা করেননি। বরং বহু ইরানি এবং বিশ্বের অন্যান্য জায়গার অনেক মানুষকেও হত্যা করেছেন।’

সোলাইমানির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা মানুষদের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে এবং মূলধারার সংবাদমাধ্যমে এমন অসংখ্যা ইরাকি, সিরিয়ান এবং ইরানিকে দেখা যাচ্ছে যারা বলছেন তারা মোটেও শোক প্রকাশ করছেন না। বরং সোলাইমানির মতো একজন ‘সন্ত্রাসী’র মৃত্যুতে তারা খুশি হয়েছেন।


সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply