শরণার্থীদের ঘরে ফেরার আকুতির বছর

|

গত কয়েক দশকে শরণার্থীর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। শুধু ২০১৮ সালেই ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষ নতুন করে শরণার্থী হয়েছে। বিশ্বজুড়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ৭ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। যুদ্ধ, নির্যাতন ও সংঘাতের কারণে এসব মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। আর বাস্তুচ্যুত মানুষের বহরে রোহিঙ্গা যুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বদলে গেছে অতীতের সব রেকর্ড। তুরস্ক বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শরণার্থী জায়গা দিলেও বাংলাদেশেই রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী ক্যাম্প। কিন্তু বিশ্বজুড়ে এই শরণার্থী সংকটের মধ্যে সম্প্রতি দেশে দেশে আশ্রিত বিশাল সংখ্যক শরণার্থী ও অভিবাসীর মধ্যে ঘরে ফেরার আকুতি প্রবল হচ্ছে। আর চলতি ২০১৯ সালকেই দেখা হচ্ছে তাদের ঘরে ফেরার আকুতির বছর হিসেবে। একদিকে আশ্রয়দাতা দেশগুলো যেমন শরণার্থীদের তাদের আপন দেশে ফেরাতে তৎপর, অন্যদিকে সেই তৎপরতা শরণার্থীদের মধ্যেও। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সাবধান করে বলছেন, শরণার্থীদের নিজ নিজ দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির খুব সামান্যই উন্নতি হয়েছে। সহিংসতা ও সংঘাতের কারণে কোথাও কোথাও তা আরও খারাপ হয়েছে।

আলজাজিরা জানায়, চলতি বছর পর্যন্ত তুরস্ক শুধু সিরীয় শরণার্থীই আশ্রয় দিয়েছে ৩৭ লাখ। এসব শরণার্থীর পেছনে কোটি কোটি ডলার খরচ করছে দেশটি। কিন্তু দেশটি এখন চাচ্ছে, এসব শরণার্থী তাদের আপন দেশে ফিরে যাক। সেই লক্ষ্যেই চলতি বছরের শেষের দিকেই শরণার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করতে সিরিয়ায় অভিযান চালায়। সিরিয়ায় চলমান সংঘাতের মধ্যে চলতি সপ্তাহেই তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান ইউরোপীয় দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছেন, সিরিয়া থেকে আর কোনো শরণার্থীকে আশ্রয় দেবে না তুরস্ক।

দুই বছরের পরে এসেও রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি মিয়ানমার। বরং মিয়ানমারে প্রাণ বাঁচাতে নতুন করে বাস্তুচ্যুত হচ্ছে মানুষ। দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানও বড় শরণার্থী সংকট মোকাবেলা করছে। দেশটি প্রায় ১৪ লাখ আফগান শরণার্থী ও অভিবাসী আশ্রয় দিয়েছে। আফগানিস্তানে ১৮ বছর ধরে চলা যুদ্ধ-সংঘাতের বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইউরোপের দেশগুলোয়ও রয়েছে বহু আফগান। আশ্রয়দাতা দেশগুলো এখন তাদের দেশে পাঠিয়ে দিতে চাচ্ছে। কিন্তু দেশে ফেরা যে তাদের জন্য ভয়ানক হবে, ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষকে সেটা বোঝাতে হিমশিম খাচ্ছে তারা।

উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় বিরামহীন যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে ভূমধ্যসাগর পাড়ি, ইউরোপ পাড়ি দেয়ার চেষ্টায় হাজার হাজার মানুষ। রুট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে ভূমধ্যসাগর উপকূলবর্তী দেশ লিবিয়া। বর্তমানে ইউরোপের চাপে শরণার্থী ও অভিবাসীদের আটক করে বন্দিশিবিরে আটক করছে দেশটির সরকার। এসব বন্দিশিবিরের অবস্থা এককথায় ভয়াবহ। নির্যাতন, ধর্ষণ, হত্যার শিকার হচ্ছে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইএমও) তথ্যমতে, চলতি বছর সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রায় ১ হাজার ২৪৬ জন নিহত হয়েছে।









Leave a reply