দেশে দেশে ব্যতিক্রমী সব ক্রিসমাস ঐতিহ্য

|

ক্রিসমাস- খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। খ্রিস্টিয় ২০০ সাল থেকে  প্রতিবছর ২৫ ডিসেম্বর রোমান ক্যাথলিক ও প্রটেস্টান্ট চার্চের অনুসারীরা যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন উপলক্ষে এ উৎসব পালন করে। এ উৎসব পালন করতে গিয়ে এদিন বিশেষ খাবার তৈরি করা হয়, যেমন রোস্ট টার্কি, শূকরের মাংস, হাঁসের মাংস, পুডিং, ক্রিস্টমাস কেক ইত্যাদি। কিন্তু দেশে দেশে ক্রিসমাস পালন করতে গিয়ে কিছু অদ্ভুত ঐতিহ্য এর অনুষঙ্গ হয়ে পড়ে। জেনে নেই সেইসব অদ্ভুত কথা।

কেএফসিতে খেতেই হবে (জাপান):

কেএফসি খেতে লাইন জাপানে

জাপানে ক্রিসমাস মানেই লাইন দিয়ে কেএফসি দোকানে গিয়ে ফাস্টফুড খাওয়া। অথচ দেশে দেশে এদিনে বাসায় রান্না করা হয়, কিন্তু জাপানে কেএফসি’র ফাস্টফুড ছাড়া ক্রিসমাস উৎসব পালিত হয়নি মনে করা হয়। কিন্তু জাপানে কেএফসি প্রথম আসে ১৯৭০ সালে। তাহলে কেনো কেএফসি জাপানে ক্রিসমাস উদযাপনে ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়ালো। কয়েক ধরণের মতামত পাওয়া যায়। একটি হলো- জাপানে টুরিস্টরা এই দিনে ক্রিসমাস উদযাপন করার জন্য টার্কি খুঁজে পেতো না। তাই টার্কির রোস্টের বদলে তারা কেএফসিতে গিয়ে মুরগীর রোস্ট খেতো। সহজলভ্য হওয়ায় ধীরে ধীরে টার্কির বদলে মুরগী ভাজা জনপ্রিয় হয়ে উঠে জাপানে। আর এভাবেই দিনে দিনে কেএফসি জাপানে ক্রিসমাস পালনে অদ্ভুত ঐতিহ্য হয়ে উঠে। অন্য মতামত হলো-একবার জাপানে একটি কিন্ডারগার্টেন তাদের খ্রিষ্টান ধর্মের শিশুদের জন্য ক্রিসমাস পার্টি দেয়। আর সে পার্টিতে স্কুলের পক্ষ থেকে কেএফসি খাবারের অর্ডার করে। স্কুল কর্তৃপক্ষ কেএফসিকে অনুরোধ করে খাবার যখন নিয়ে আসবে তখন যেনো সান্তা ক্লজের পোশাক পড়ে আসে। সেই স্কুলের দেখাদেখি আরও কয়েকটি স্কুল এরকম পার্টির আয়োজন করে সবাই কেএফসিতে খাবারের অর্ডার করে। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সাল থেকে কেএফসি ক্রিস্টমাস দিনে বিশেষ প্রোমশনাল ক্যাম্পেইন করে। দশবছর পরে জাপানে ক্রিসমাস উৎসবে কেএফসি বাধ্যতামূলক অনুষঙ্গ হয়ে পড়ে।

চর্বিসহ তিমি মাছের কাঁচা চামড়া খাওয়া (গ্রিনল্যান্ড): 

চর্বিসহ তিমি মাছের কাঁচা চামড়ার মাটাক

গ্রিনল্যান্ডে ক্রিসমাস দিনে চর্বিসহ তিমি মাছের কাঁচা চামড়া খাওয়া একটি ঐতিহ্য। আর এটাকে স্থানীয়ভাবে মাটাক বলা হয়। আর এটি খেতে কাঁচা নারিকেলের মতো লাগে। যদিও এটি খেতে কিছুটা কঠিন কারন দীর্ঘক্ষণ চিবিয়ে যেতে হয়। এছাড়া আরেকটি খাবার হলো কিভিয়াক। এটি হলো সীলের চামড়া দিয়ে মুড়িয়ে স্থানীয় আক পাখি কয়েকমাস ধরে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়। পরে পচে যাওয়া সেই পাখি খাওয়াই ক্রিসমাস উৎসব।

এভাবেই সাজানো হয় ঘোড়ার খুলি

ঘোড়ার খুলি নিয়ে শহরে শহরে মিছিল (ওয়েলস): 

একদল পুরুষ ঘোড়ার খুলি নিয়ে শহরে শহরে ঘুরে বেড়ায়, গান গেয়ে বাড়িতে ঢোকার অনুমতি চায়। ঘোড়ার খুলিটিকে বিভিন্ন রংয়ের রিবন, গয়না দিয়ে সাজানো হয়। ওপরে কাপড় দিয়ে মোড়ানো হয়। একটি ভুতুরে চেহারা দেয়া হয়। সেই খুলি নিয়ে গান গেয়ে গেয়ে ঘরের সামনে যাওয়া হয়। গানে গানে দুপক্ষ কথা বলে, ঘরে ঢোকার অনুমতি চায়।  যদি ঘরে ঢোকার অনুমতি পায় তাহলে তাদের খাবার ও পানি দিয়ে থাকে। এটিকে স্থানীয়ভাবে মেরী লয়েড বলা হয়।

মাকড়সা জালের মতো এভাবে সাজানো হয় ক্রিস্টমাস ট্রি

ভুতুরে মাকড়সা দিয়ে ক্রিস্টমাস ট্রি সাজানো (ইউক্রেন):

ইউক্রেনে ক্রিসমাস দিনে মাকড়সাকে শুভ হিসেবে দেখা হয়। তাই ক্রিসমাস ট্রিকে মাকড়সা জাল ও মাঝে মাঝে বড় মাকড়সা দিয়ে সাজানো হয়। ধারণা করা হয়  যেসব গরিব পরিবার বড় দিন উদযাপন করতে সামর্থহীন তাদের ঘর সাজাতে মাকড়সা রাতে এসে তাদের জাল দিয়ে সুন্দর ও নান্দনিকভাবে সাজিয়ে দিয়ে যায়। আর এটাই ইউক্রেনে ক্রিসমাস ঐতিহ্য হয়ে উঠেছে। তাই এদিনে আগামী বছরের শুভ ভবিষ্যতের কামনায় মাকড়সা জাল দিয়ে ক্রিসমাস ট্রিকে সাজানো হয়।

ডাইনীরা যাতে ব্যবহার না করতে পারে তাই লুকিয়ে রাখে ঝাড়ু

ঝাড়ু লুকিয়ে রাখা (নরওয়ে):

ক্রিসমাসে নরওয়ে ঐতিহ্য হলো ঝাড়ু লুকিয়ে রাখা।  ঝাড়ুতে যেনো কোন ডাইনী বা যাদুকরী কোন শক্তি না চড়ে বসে তা্ই নরওয়েজিয়ান ঘরের সব ঝাড়ু এদিনে লুকিয়ে রাখে।

বিয়ের শুভ কামনায় ঘরের বাইরে জুতা ছুড়ে মারা (চেক  রিপাবলিক):

চেক রিপাবলিকের নারীরা এক অদ্ভুত রীতি পালন করে ক্রিসমাস দিনে। যেসব নারী আগামী বছর বিয়ে করবে তারা ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে পিছন ফিরে ঘাড়ের ওপর দিয়ে জুতা ছুড়ে মারে। যদি জুতা নির্দিষ্ট জায়গায় না পড়ে তাহলে সে আগামী বছর সিঙেল থাকবে। আর নির্দিষ্ট স্থানে পড়লে তিনি উৎসবে অংশগ্রহণ করবে।

 রোলার স্কেটিং করে ক্রিস্টমাস ডিনারে করতে যাওয়া (ভেনিজুয়েলা):

রোলার স্কেটিং করে খেতে যাচ্ছে ভেনিজুয়েলানরা

ভেনিজুয়েলানরা ক্রিসমাস উদযাপনে আলোক সজ্জা, খাওয়া, গান ও নাচের সাথে অন্য একটি ঐতিহ্য মেনে চলে, তাহলে ক্রিসমাস ডিনার খেতে তারা রাস্তায় রোলার স্কেটিং করে নির্দিষ্ট স্থানে যায়। এমনকি শিশুরা তাদের পায়ের আঙুলের সাথে রশি বেঁধে জানালা দিয়ে অন্যপ্রান্তে ফেলে রাখে অন্যরা যখন রোলার স্কেটিং করে খেতে যায় তখন রশিতে টান দেয় যাতে শিশুরা মনে করে তাদেরও খেতে যাওয়ার সময় হয়েছে। এভাবে শিশুসহ সবাই রোলার স্কেটিং করে খেতে যায়। আর এটা এতো জনপ্রিয় যে ভেনিজুয়েলার সরকার রোলার স্কেটিং করার জন্য রাত ৮ টার পর নির্দিষ্ট রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়।

টিবিজেড//









Leave a reply