অবৈধ ৩১৬ স্থাপনা চিহ্নিত শুরু হচ্ছে মগড়া নদী দখলমুক্ত অভিযান

|

নেত্রকোনা প্রতিনিধি:

এক সময়ের চঞ্চল মগড়া নদী এখন দখল দূষণে পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। নেত্রকোনা জেলা শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত মগড়া দখল আর ময়লা আবর্জনার কারণে দূষিত হয়ে পড়েছে। শহরবাসীর দীর্ঘদিনের এই প্রাণ-প্রবাহ মগড়াকে রক্ষায় দাবী জানিয়ে আসছিল। দাবী ছিল নদীটির খননসহ দুই পাড় রক্ষার। এরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীটি রক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়।

শহরের পাঁচ কিলোমিটার অংশের বিভিন্ন স্থানে এরিমধ্যে জেলা প্রশাসন ৩১৬ টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। জেলা প্রশাসন ও জেলা পানি উন্নয়ন হিসেবে অন্তত ১৫৭ টি অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে নদীটির দুই পাড়ে। এরমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০৪ টি উচ্ছেদ মোকদ্দমা ও ২০ টি দেওয়ানী মামলা করা হয়েছিল। তবে স্থানীয় লোকজন জানান,অবৈধ স্থাপনার সংখ্যা আরও বেশি হবে। জেলা প্রশাসনের হালনাগাদ তালিকায় ৩১৬টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়। শগরের আনন্দ বাজার থেকে শুরু করে নদীর দুই পাড়ে এসব স্থাপনা গড়ে উঠেছে। সাতপাই,নাগড়া, তেরীবাজার, ছোটবাজার, মোক্তারপাড়া,কাটলী,পাটপট্টি পর্যন্ত এলাকায় অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় নদীটির দুই পাড়ের ৩১৬ টি অবৈধ স্থাপনা দখল মুক্ত করতে আজ থেকে শুরু হচ্ছে উচ্ছেদ অভিযান। অভিযানের পর পৌরসভার উদ্যোগে নেয়া হবে সৌন্দর্যবর্ধনের ব্যবস্থা।

স্থানীয় পাউবো সূত্র জানায়, নেত্রকোনার ভেতরে নদীটির দৈর্ঘ্য ৭০ কিলোমিটার।

স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মড়া তেমন প্রশস্ত না হলেও বেশ গভীর ছিল। নেত্রকোনা শহরের ভেতরে চোখের কোণার মতো বয়ে গেছে। শহর গড়ে উঠেছে নদীর দুই পাশে। আঁকাবাঁকা পথ পাঁচ কিলোমিটার। শহরের উভয় অংশে যোগাযোগের জন্য ছয়টি সেতু আছে শহর এলাকায়। এই সেতুগুলো নাগড়া, আনন্দ বাজার সংলগ্ন,নাগড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায়,নাগড়া থানা মোড়, মোক্তারপাড়া,কাটলী ও পাটপট্টী সেতু। এরমধ্যে মোক্তারপাড়ার সেতুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শহরের প্রধান সেতু এটি।

স্থানীয় পরিবেশ কর্মী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক সাইফুল্লাহ এমরান জানান, শহরের বিভিন্ন প্রান্তে আগে ২০টি মতো ঘাট ছিল। এখন দু’একটা ছাড়া বাকিগুলো দখলদারের হাতে চলে গেছে। দখলমুক্ত ও নদীটি সংস্কার হলে শহরের চেহারা পাল্টে যাবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মাদ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন,পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন সমন্বয়ে উচ্ছেদ শুরু হচ্ছে। উচ্ছেদের পর সীমানা চিহ্নিত স্থানে আপাতত বনায়নের কাজ করা হবে। এরপর নদীটি সৌন্দর্য বর্ধনের প্রকল্প নেয়া হবে।

জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম জানান, শহরের ৩১৬ টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে। এর আগে অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে সবাইকে নোটিশ দিয়ে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। সোমবার থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ উপস্থিত থেকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করবে।


সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply