সর্ববৃহৎ ভিআরএম স্থাপন করে শাহ্‌ সিমেন্টের বিশ্বরেকর্ড

|

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভার্টিক্যাল রোলার মিল (ভিআরএম) স্থাপন করে বিশ্বরেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশের শাহ্ সিমেন্ট। গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম উঠেছে বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটির। এর সাথে বাংলাদেশের সিমেন্ট শিল্পও স্পর্শ করেছে এক নতুন মাইলফলক।

বিশ্বের সর্ববৃহৎ ভিআরএম প্রযুক্তির স্থাপন করে গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তুলেছে শাহ‌্ সিমেন্ট

শাহ সিমেন্টের ছয়টি রোলার সমন্বিত এই ভিআরএম প্রতিদিন ১৫ হাজার টন এবং বছরে ৬০ লাখ টন সিমেন্ট উৎপাদন করতে সক্ষম। এর গ্রাইন্ডিং টেবিল ডায়ামিটারটি ৮.০৮ মিটার এবং রোলার টেবিল ডায়ামিটারটি ২.৬৪ মিটার। এই ভিআরএমকে ‘পৃথিবীর একক বৃহত্তম’ হিসেবে সত্যায়িত এবং নথিভুক্ত করেছে গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস।

জ্বালানি সাশ্রয়ী হিসেবে ভিআরএম প্রযুক্তি তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সারা বিশ্বে সমাদৃত। শাহ্‌ সিমেন্টের নতুন এই ভিআরএম স্থাপনে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিয়েছে ডেনমার্কের বিখ্যাত এফএল স্মিথ। নতুন এই ভার্টিক্যাল রোলার মিলে সর্বাধুনিক ডিজিটাল এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তি সংযুক্ত করা হয়েছে।

আবুল খায়ের গ্রুপের পরিচালক (ব্র্যান্ড মার্কেটিং) নওশাদ চৌধুরী বলেছেন, ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ক্রেতা বাড়ি নির্মাণে শাহ্ সিমেন্টের ওপর আস্থা রেখেছেন। ক্রেতাদের এই অবিচল আস্থা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে শাহ্ সিমেন্ট ও বাংলাদেশকে নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখার। আমরা যখন উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর কথা ভাবছিলাম, তখন এমন উৎপাদন প্রক্রিয়ার কথা ভেবেছি, যা দেশজুড়ে শাহ্ সিমেন্টের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহই শুধু নিশ্চিত করবে না, প্রতিটি ব্যাগে সেরা মানের সিমেন্টের নিশ্চয়তাও দেবে।

শাহ্‌ সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পরিচালক (অপারেশনস) হাফিজ সিকান্দার জানান, নিরবচ্ছিন্নভাবে উন্নতমানের সিমেন্ট সরবরাহ করার লক্ষ্যে আমরা এই প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের পরিকল্পনা করি এবং এফএল স্মিথকে বেছে নিই। সিমেন্ট প্রযুক্তিতে তাদের ৪০ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে।

শুধু আকারে বড় কিংবা বেশি উৎপাদন সক্ষমতাই নয়, শাহ্ সিমেন্টের ভিআরএম প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত আছে ‘ইন্টেলিজেন্ট মনিটরিং কন্ট্রোল সিস্টেম’। এর মাধ্যমে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত প্যানেল থেকে পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করা হয়। ফলে উৎপাদিত সিমেন্টের গুণগত মান সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মতরভাবে বিশ্লেষণ সম্ভব হয়। একই সঙ্গে যথাযথভাবে উৎপাদনের বিভিন্ন স্তরের সমন্বয়ও করা যায়। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কোনো সমস্যা দেখা দিলে এই ভিআরএমের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিজেই বিল্ট-ইন-টুলস দিয়ে বেশির ভাগ সমস্যার সমাধান করতে পারে।

সিমেন্ট খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শাহ্ সিমেস্টের এই প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের সিমেন্ট শিল্পকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে।









Leave a reply