শতবছরের পুরনো কবরে মৃতদেহ অক্ষত, নষ্ট হয়নি কাফনের কাপড়ও!

|

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে শতবছরের পুরনো একটি কবরে অক্ষত লাশ দেখতে পাওয়া গেছে। লাশের পরনের কাফনের কাপড়টি এখনো সাদা এবং বাঁধনসহ পুরো কাপড়টি একদম ঠিকঠাক আছে। এমনকি লাশটিতে কোন পচনও ধরেনি।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের অভিরামপুর (হাজিপাড়া) গ্রামে সোমবার দুপুরে মাটি কাটার সময় ৩-৪ ফুট নিচে শ্রমিকরা কবর ও অক্ষত লাশটি দেখতে পান।

এদিকে, পুরনো কবর ও অক্ষত লাশ পাওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আশপাশ এলাকার শতশত উৎসুক মানুষ গত দুইদিন ধরে কবর দেখতে ভিড় করেছেন। এছাড়া অক্ষত এমন লাশের ঘটনায় মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তারা ভাবছেন, এটি কোনো পরহেজগার ব্যক্তির লাশ, তাই হয়তো এতে পচন ধরেনি। তবে লাশটির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের ধারণা, এ লাশ শতবছরের অধিক সময়ের পুরনো হবে। পুরনো কবরে লাশের কাপনের কাপড় নতুনের মতোই আছে। কাপনের কাপড়ে কোনো দাগ নেই, এটা ঈমানের আলামত। তবে ওই স্থানে কোনো দিন কবরস্থান ছিল বলে জানা নেই তাদের।

হাজিপাড়ার প্রবীণ ব্যক্তি আবদুল মালেক জানান, ওই স্থানে একটি উঁচু ঢিবি ছিল। জমির মালিক ঢিবির মাটি অন্যত্র বিক্রি করায় শ্রমিকরা মাটি কাটতে থাকে। কিন্তু ৩-৪ ফিট মাটি কাটার পরেই কবর ও লাশটি দেখতে পায়। পুরনো কবরে এই লাশ একজন নেক্কার বান্দার। নেক্কার বান্দাদের আল্লাহ যে হেফাজত করেন এটা তার জ্বলন্ত উদাহরণ।

দরবস্ত ইউপি সদস্য আবদুল গফুর বলেন, ‘লাশের মুখমণ্ডল এবং কাফনের পুরো কাপড়টি অক্ষত আছে। এমন কবর ও লাশ দেখে কবর চত্তরে মুসল্লিদের নিয়ে জানাজা নামাজ পড়া হয়’।

দরবস্ত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম জজ বলেন, ‘শ্রমিকরা মাটি কাটার সময় লাশের মাথা ও মুখের অংশ দেখার পর কবরের মাটি আর সড়ানো হয়নি। পরে পুরো কবরটি মাটি দিয়ে ভালো করে ঢেকে রাখা হয়। ওই কবর পুরনো হওয়ায় এটি কার লাশ তার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি’।

এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আফজাল হোসেন বলেন, ‘স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুরনো কবর ও অক্ষত লাশের সত্যতা পাওয়া যায়। তবে এলাকার কেউই লাশটির পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। কবর দেখতে মানুষ ভিড় করায় নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় গ্রাম পুলিশ কবরে পাশ রাখা এবং পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে’।









Leave a reply