সকালে নাস্তার আগেই যে ১৩টি কাজ করেন সফল ব্যক্তিরা

|

পৃথিবীর সফল মানুষদের সফলতার পিছনে কোন গোপন সূত্র নেই, তাদের গোপন সূত্র হলো সময়কে পূর্ণভাবে ব্যবহার করা। তাই সফল ব্যক্তিরা সকালের নাস্তার আগেই গড়পড়তা মানুষের থেকে আলাদাভাবে নিজেদের কাজগুলো সম্পাদন করে ফেলেন। তা জানাচ্ছেন তালহা বিন জসিম

১. নির্দিষ্ট সময়ে খুব ভোরে উঠা:
সফল ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে জেগে থাকেন এবং অলসতা পরিহার করে সবার আগে খুব ভোরে জেগে প্রতিটি মূহুর্তকে ব্যবহার করেন মানসম্মতভাবে, কেননা তারা জানেন সময়ের মূল্য। উদাহরন স্বরূপ- পেপসিকো’র সিইও ইন্দিরা ভোর ৪ টার সময় জেগে ৭টার মধ্যে অফিসে ঢুকেন। ওয়াল্ড ডিজনির সিইও বব আয়ার জাগেন ৪.৩০, টুুইটার সিইও জ্যাক ডরসি জাগেন ভোর ৫.৩০।

২. পানি খেয়ে দিন শুরু
ঘুম থেকে উঠে পানি খেয়ে নিন ১/২ গ্লাস। এগুলো সফল ব্যক্তিরা করে থাকেন। বিখ্যাত পত্রিকা হাফিংটন পোস্টের প্রতিষ্ঠাতা আরিন্না হাফিংটন ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস লেবুসহ গরম পানি পান করে থাকেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান ঘুম থেকে জেগে সকালে পানি খেলে পয়:নিষ্কান ভালো হয়, শরীর চাঙা অনুভূত হয়।

৩. বেডরুম গুছিয়ে ফেলা
অনেকে আছে ঘুম থেকে উঠে বিছানা না গুছিয়ে, মশারি না উঠিয়ে অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু ঘুম থেকে উঠে সাথে সাথে পুরো বেডরুম গুছিয়ে ফেললে সারাদিনের অনেক সময় বেচে যায়। যখন সারাদিন কর্মে ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফিরে বেডরুমে ঢুকবেন তখন এটা আপনাকে মানসিক শান্তি দিবে।

৪. আলো ফোটার আগে শরীর চর্চা
বেশির ভাগ সফল ব্যক্তিরা সকালে নাস্তার আগে শরীর চর্চা করে নেন। তবে অবশ্যই শরীর চর্চার পর হেলথি নাস্তার ব্যবস্থা করা।

৫. গোসল করা:
সকালের একটা ফ্রেশ গোসল আপনাকে সারাদিন প্রাণবন্ত রাখবে, তাই নাস্তার আগেই একটু সময় নিয়ে পরিষ্কার হয়ে গোসল করে নিন।

৬. মানসিক শান্তির জন্য মেডিটেশন:
অনেক সফল ব্যক্তি সকাল মানসিক প্রশান্তি আনতে মেডিটেশন ও ধর্মীয় আচার পালন করে থাকেন। সকালে মেডিটেশন করে বের হলে সারাদিনের কাজে মনোযোগ ভালো থাকে। এসময় মোটিভেশনাল বই, মুভি দেখা যেতে পারে। বিল গেটস প্রতিদিন এই কাজটি করে থাকেন নিজেকে উৎসাহ দিতে।

৭. গুরুত্বপূর্ন কাজটা সকালে করা
সফল ব্যক্তিরা তাদের সবচেয়ে চিন্তার ও মনোযোগের কাজটা সকালে করে থাকেন। কারণ এসময় আবহাওয়া থাকে নিরব, এসময় নিরবিচ্ছিন্ন কাজ করা যায়। এসময় পরিবারের শিশুরা ঘুমিয়ে থাকে। আবার সকাল সকাল অফিসে গিয়ে কাজ করলে কলিগ ও বসের ঝামেলা ছাড়াই মনোযোগের সাথে দিনের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজটা গুছিয়ে নেয়া যায়।

৮. বিশেষ আগ্রহের কাজ সকালে করা
কেউ আছে গল্প উপন্যাস লেখা পছন্দ করে, কেউ আছে সফটওয়ার বানানো নেশা। যারা সফল হয়েছেন তারা ঝোকের কাজ সমূহ বা যেগুলোতে আলাদা আগ্রহ আছে তা সকাল বেলা করে থাকেন। এতে সফল হওয়ার হার বেশি। যেমন নিজের দক্ষতা বাড়ানোর কাজগুলো সকালে করা। নিজের চিন্তাধারা লিখে রাখা। বেনজামিন ফ্রাঙ্কলিন প্রতিদিন সকালের ১ ঘণ্টা সময় কাটাতেন শুধু চিন্তাধারা লেখা ও পড়াশুনা করে।

৯. পরিবারের সাথে মানসম্মত সময় কাটানো
অনেক সফল ব্যক্তিরা দিনে রাতে খুব ব্যস্ত থাকেন বা অফিসিয়াল ট্যুরে বাহিরে থাকেন। অনেক সময় পরিবারের সাথে একসাথে খাওয়ার সুযোগ হয়না। তাই তারা পরিবার, সন্তানদের সাথে মানসম্মত সময় কাটিয়ে থাকেন। সেটা হতে পারে সকালে নাস্তা তৈরী করা, বাচ্চাদের পড়াশোনার খোজ নেয়া। বাবা মায়ের সাথে সময় কাটানো। পরিবারের আয়, ব‌্যয় ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা। পালিত পশু পাখির পরিচর্চাও করা যেতে পারে।

১০. আত্মসমালোচনা ও লিখে রাখা
গতকালকের কোন কাজগুলো আপনাকে খুশি করেছে, কোন কাজটি পরিকল্পনামতো শেষ করতে পারেন নি। কেন পারেন নি। নিজের জীবনে যে লক্ষ্য সেটা কি অর্জনের পথে আছি কিনা সেটা লিখে রাখা, মোট কথা একধরনের আত্মসমালোচনা করে ফেলা, কাজগুলো ভালোভাবে সম্পাদন হলে নিজেকে ধন্যবাদ দেয়া, ইশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞতা জানানো।

১১. সারাদিনের পরিকল্পনাটা করে ফেলা
কি কি কাজ করতে হবে, কার কার সাথে অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে, সেখানে কি কি হোমওয়ার্ক করতে হবে। দিনের কোন কাজগুলো সবথেকে গুরুত্বপূর্ন তা লিখে তা নির্ধারন করে ফেলা, মোটা কথা সারাদিনের কর্ম তালিকা তৈরী করে ফেলা।

১২. সংবাদপত্র পড়া:
পৃথিবীতে কি কি ঘটে গেলো, দেশের ভিতরে কি ঘটছে তা জেনে নেয়া। সেটা সংবাদপত্র পড়ে হোক, সকালে টেলিভিশনে খবর দেখে হোক, মোট কথা পৃথিবী সম্পর্কে নিজেকে আপডেট রাখা।

১৩. নাস্তা খেতে খেতে নেটওয়ার্ক তৈরী:
বেশির ভাগ সফল ব্যক্তিরা তাদের নাস্তাটা তাদের সাথে করে থাকেন যাদের সাথে ভবিষ্যতে কোন কাজের সম্পর্ক তৈরী করবেন। কেননা দুপুরের লাঞ্চের চেয়ে সকালের নাস্তার আলাপে ফলাফলটা কার্যকর বেশি হয়। সপ্তাহে একদিন এরকম নেটওয়ার্ক তৈরীতে কয়েকজন মিলে নাস্তা করা যেতে পারে।

টিবিজেড/




Leave a reply