নুসরাত হত্যাকারীরা কে কোন দল করতো

|

নুসরাত রাফিকে গায়ে আগুন দিয়ে মেরে, আত্মহত্যা বলে চালানোর পরিকল্পনা ছিলো খুনিদের। অধ্যক্ষ সিরাজের নির্দেশে ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকায় ছিলেন বাকি ১৫ জন।
দেখে নেবো ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তদের ভূমিকা। জেনে নেবো তাদের রাজনৈতিক পরিচয়।

নুসরাতকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে আটকের পর কারাগার থেকে হত্যার নির্দেশ দেন ফেনী ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা। পেশায় শিক্ষক হলেও জামায়াতের রুকন সিরাজের বিরুদ্ধে এর আগেও ছাত্রীদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ছিল। নুসরাত রাফি হত্যা মামলার প্রধান আসামি সিরাজ।

অধ্যক্ষ সিরাজের হুকুম তামিল করতে গোপন বৈঠক হয় জামায়াত কর্মী হাফেজ আব্দুল কাদেরের ঘরে। নির্দেশমত কিলিং মিশনে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করে যুবদল কর্মী নূর উদ্দিন। চাঞ্চল্যকর এ মামলার দ্বিতীয় আসামি সে। হত্যাকাণ্ডে সবচেয়ে আগ্রাসি ছিলেন তিন নম্বর আসামি ও মাদরাসা শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন শামীম। একই সাথে অর্থের যোগানদাতাও ছিল সে।

কিলিং মিশনে অংশ নেয়া ৫ জন সহ অন্যদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আশ্বাস দিয়েছিলেন কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম। তার সাথে অর্থের যোগান দিয়েছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন।

নুসরাতকে ছাদে ডেকে নেন সহপাঠি উম্মে সুলতানা পপি। আগুন দেয়ার সময় সে ও আরেক সহপাঠি কামরুন নাহার মনি নুসরাতের হাত পা চেপে ধরে।

নুসরাতের শরীরে কেরোসিন ঢালে শিবির কর্মী জাবেদ হোসেন। ওড়না দিয়ে নুসরাতের হাত পা বেঁধে গায়ে আগুন দেন তার সাংগঠনিক সহযোগী শিবির কর্মী জোবায়ের।

শিবির কর্মী আব্দুর রহিম শরীফ ছিল সদর দরজার পাহাড়ায় তার সাথে দায়িত্ব পালন করে আরেক শিবির কর্মী ইফতেখার উদ্দিন রানা ও মহিউদ্দিন শাকিল। যে কোন ধরণের প্রতিবন্ধকতা সামাল দেয়ার দায়িত্ব ছিল ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও আফছার উদ্দিনসহ অন্যরা। সবার দায়িত্ব বন্টনের পর মাদরাসার ছাদে মিশন সম্পন্ন করে শাহাদাত হোসনে শামীম, জোবায়ের, জাবেদ, পপি আর মনি।


সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply