ছাদবাগান কেন করবেন, কীভাবে করবেন

|

ইট-কাঠের নগরীতে হাজারও ব্যস্ততার মাঝে প্রশান্তির একটুখানি জায়গা হচ্ছে বাগান। দূর থেকে দূরে যখন কোথাও সবুজকে খুঁজে বেড়াতে হয়, তখন ছাদে বা ঘরের কোণের বাগানটি হতে পারে ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির এক অনন্য মাধ্যম।

বাগান করতে কোনো বাধাধরা যেমন বয়সের প্রয়োজন হয় না, তেমনি খুব বেশি জায়গাও লাগে না। অল্প জায়গা আর যথাযথ পরিকল্পনা ঘরের কোণকে বাগান করে তোলার জন্য যথেষ্ট। ঘরের ভেতরে বাগান করা ছাড়াও বেলকনিতে কিংবা ছাদে অনায়াসে মনের মতো বাগান করা যায়।

ছাদে বাগান করার ক্ষেত্রে গোলাপ, রজনীগন্ধা, গন্ধরাজ, বেলি, জুঁই, হাসনাহেনা, পাতাবাহার, অর্কিড বেশ উল্লেখযোগ্য। তবে এসব ফুলগাছের পাশাপাশি ফল যেমন আম, লেবু, পেয়ারা, বরই, ডালিম খুব সহজে বাগানের সৌন্দর্য অনেকাংশে বাড়িয়ে তোলে।

ছাদে বাগান করার ক্ষেত্রে বিশাল আকারের মাটির টব কিংবা প্লাস্টিকের ড্রাম ব্যবহার করা হয়। এতে খুব সহজে যেমন পানি দেয়া যায়, তেমনি খোলা জায়গা হওয়াতে গাছ পায় পরিমিত আলো, ছায়া, রোদ, বৃষ্টি আর বেড়ে উঠার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা। অন্যদিকে জায়গার অভাবে যারা বাগান করতে পারেন না, তারা বেলকনি কিংবা ঘরের কোণকে বাগানের আদলে সাজাতে পারেন।

বেলকনিতে যারা বাগান করতে চান তারা গাছ বেড়ে উঠার সময় এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পাবে কিনা তা আগে নজরে আনুন। বেলকনিতে বাগানের ক্ষেত্রে প্লাস্টিকের টব হতে পারে গাছ রোপণের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম। এছাড়া এসব টবের নিচে আলাদা প্লাস্টিকের আরও একটি পাত্র দেয়া থাকে, যাতে গাছে পানি দেয়ার পর অতিরিক্ত পানি বাইরে পড়ে জায়গা অপরিষ্কার না হয়। এসব বাগানে গাছ রোপণের ক্ষেত্রে পাতাবাহার, গোলাপ, গন্ধরাজ, বেলি, লেবু, মরিচ, পেয়ারা ইত্যাদি গাছ বেছে নিতে পারেন।

এছাড়া বেলকনির গ্রিলের সঙ্গে ম্যানিপ্লান্টসের জুটি ঘরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলে। লতাপাতা যুক্ত এ গাছগুলো কয়েক মিটার পর্যন্ত লম্বা হয় এবং খুব সহজে বেড়ে উঠে। নানা ধরনের গাছের ফাঁকে ফাঁকে কিংবা আলাদা করে এ ম্যানিপ্লান্টস লাগিয়ে বাগানের সৌন্দর্য কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব।

নানা ধরনের ফুলের গাছ ছাড়াও ঘরের ভেতর নানা ধরনের ক্যাকটাস, মিনিপ্লান্টস, লেমন গ্রাস, বিভিন্ন ধরনের ঔষধি গাছ যেমন- থানকুনি পাতা, অ্যালোভেরা, পাতাবাহার, ক্যাকটাস দিয়েও ঘরের ভেতরে বাগানের পরিকল্পনা আঁকা যায়।

তবে যে কোনো গাছের ক্ষেত্রে তা পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, পানি আর রোদের সংস্পর্শ পাচ্ছে কিনা তা খেয়ালে রাখা জরুরি। ঘরে বাগান করার ক্ষেত্রে টব কিংবা মাটির পাত্রের পাশাপাশি টেনারিয়াম পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয়।

টেনারিয়াম মূলত গাছকে কাচের পাত্রের মাঝে বড় করে তোলার একটি পদ্ধতি। এতে আপনার ঘরে জায়গা যেমন বাঁচবে, তেমনি অল্প পরিসরে একটি ক্ষুদ্র কাচের পাত্রে আপনি একটি পুরো বাগান দেখতে পাবেন। আকারে ছোট আর কাচের স্বচ্ছ পাত্র হওয়ায় এটিকে ঘরের যে কোনো জায়গায় যেমন ঝুলিয়ে রাখা যায়, তেমনি বহনেও বেশ সহজ এ টেনারিয়াম। বিশেষ পদ্ধতিতে আনা ছোট গাছ আর তার সঙ্গে অল্প মাটি, পাথর আর সার যথেষ্ট এর জন্য। তবে গাছের ক্ষেত্রে তা যেন এসি ঘরে না থাকে সেদিকে বিশেষ নজরদারি আবশ্যক। উন্মুক্ত পরিবেশ ছাড়া গাছ যেমন বেড়ে উঠে না, তেমনি গাছ মারাও যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে ক্যাকটাস যে কোনো পরিবেশের সঙ্গে খুব সহজে মানিয়ে যায়। ঘরের কোণের বাগান একদিকে যেমন অবসরের সঙ্গী, তেমনি মানসিক প্রশান্তির এক বিশাল মাধ্যম।

ছুটির দিনে প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানোর একটি উপলক্ষ হতে পারে এ বাগান। অন্যদিকে ঘরের ছোট্ট পরিসরে করা এ বাগান একদিকে যেমন মৌসুমি নানা ফুল যেমন- গাঁদা, বেলি, মৌসুমের আগাম আগমন জানান দেবে তেমনি আপনার আশপাশকে করবে প্রাণবন্ত আর প্রশান্তিময়।

কোথায় পাবেন : গাছের ক্ষেত্রে আপনার আশপাশের নার্সারি হতে পারে গাছ নির্বাচনের উৎস। এছাড়া টবের ক্ষেত্রে প্লাস্টিকের টব পেতে পারে উত্তরা, মহাখালী, বনানী, শাহবাগ এলাকাতে। প্লাস্টিকের টবের দাম পড়বে ২৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, মাটির টবের দাম পড়বে ১৫০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং টেনারিয়ামের দাম পড়বে ২৫০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত।









Leave a reply