আবরার হত্যা নিয়ে যা বললেন অমিত সাহা

|

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বী হত্যা মামলায় বুয়েট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত আইনবিষয়ক উপ-সম্পাদক অমিত সাহা ফের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সাঈদ এ রিমান্ড আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. ওয়াহিদুজ্জামান আসামি অমিত সাহার ফের সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

এদিন বিকাল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে অমিত সাহাকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এ সময় হাতকড়া পড়ানো অমিত সাহাকে এজলাসের ডকে রাখা হয়। এর কিছু সময় পর আদালতে বিচারক আসলে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এর এক ফাঁকে অমিত সাহার সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা হয়।

অমিত সাহা বলেন, ঘটনার দিন আমি সেখানে ছিলাম না। রাত দেড়টার দিকে খবর পেয়েছি। আমি মিথ্যাভাবে ফেঁসে গেলাম। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

সহপাঠী আবরারকে পিটিয়ে হত্যার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমিও তো একজন মানুষ। এ কথা বলে অমিত সাহা ডকে দাঁড়িয়ে অঝরে কাঁদতে থাকেন। শুনানির সময় অমিত সাহাকে বেশ কয়েকবার কাঁদতে দেখা যায়।

প্রসঙ্গত, আবরার হত্যার সবচেয়ে আলোচিত নাম অমিত সাহা। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বুয়েট ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক আশিকুল ইসলাম তার অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।

ঘটনার বর্ণনায় সহ-সম্পাদক আশিকুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘আবরারকে শিবির সন্দেহে রাত ৮টার দিকে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে আনা হয়। সেখানে আমরা তার মোবাইলে ফেসবুক ও ম্যাসেঞ্জার চেক করি। ফেসবুকে বিতর্কিত কিছু পেজে তার লাইক দেয়ার প্রমাণ পাই। সে কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগও করেছে। আমরা তার শিবির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাই। আবরার ফাহাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বুয়েট ছাত্রলীগের উপ-দফতর সম্পাদক ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুজতবা রাফিদ, উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, উপ-আইন সম্পাদক অমিত সাহা।

এ বক্তব্যে অমিত সাহার নাম থাকলেও পরে ছাত্রলীগের তদন্তে এই ছাত্র ক্যাম্পাসের বাইরে ছিল উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করা হয়। আর প্রথম দিকে মামলার এজাহারেও অমিত সাহার নাম বাদ পড়ে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এ নিয়ে আবরার হত্যার ঘটনায় ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হল।

তাকে গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেছে ডিএমপির গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগ।

অমিত বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ১৬তম ব্যাচের ছাত্র।

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর বুয়েট ক্যাম্পাসে আলোচনার শীর্ষে আছেন অমিত সাহা। সব ছাত্রছাত্রীর মুখে তার নাম। বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের উপ-আইনবিষয়ক সম্পাদক তিনি। আবরার হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পলাতক ছিলেন তিনি। তার কক্ষেই ডেকে নিয়ে প্রথমে পেটানো হয়।

আবরার হত্যাকাণ্ডে অমিত সাহা যে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত, সেই অভিযোগ দুদিন ধরেই করে আসছিলেন বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। জানা যায়, আবরার ফাহাদ হলে আছেন কিনা সে বিষয়ে প্রথম খোঁজ নিয়েছিলেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের উপ-আইনবিষয়ক সম্পাদক অমিত সাহা। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় অমিত সাহা আবরারের এক বন্ধুকে ইংরেজি অক্ষরে ‘আবরার ফাহাদ হলে আছে কিনা’ মেসেজ দেন।

মেসেজের এক ঘণ্টার মধ্যেই শেরেবাংলা হলের ছাত্রলীগ নেতারা আবরারকে ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে যায়। ২০১১ নম্বর কক্ষে এনে তাকে লাঠি, চাপাতি ও স্টাম্প দিয়ে পেটায়।

সূত্র: যুগান্তর


সম্পর্কিত আরও পড়ুন




Leave a reply