‘রাজহংস’ এখন ঢাকায়

|

আব্দুল্লাহ্ তুহিন, বিশেষ প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ বিমানের ৪র্থ বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’ এখন ঢাকায়। শনিবার বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় বিমানটি। তবে, নির্ধারিত সময়ের ১ ঘণ্টা দেরিতে পৌঁছায় ‘রাজহংস’। রীতি অনুযায়ী, ওয়াটার ক্যানন সেলুটের মাধ্যমে এটিকে বরণ করে নেয়া হয়।


যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্থানীয় সময় ১৩ সেপ্টেম্বর বেলা ১২টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’। তার আগে, লাল ফিতা কেটে নতুন ড্রিমলাইনারের যাত্রার উদ্বোধন হয়। বাংলাদেশ বিমানের পাইলট ক্যাপ্টেন শোয়েব চৌধুরী, ক্যাপ্টেন সরওয়ার, ফার্স্ট অফিসার জামিল ও আতিয়াব একটানা ১৫ ঘণ্টা চালিয়ে ড্রিমলাইনারটি নিয়ে আসেন।

১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪র্থ ড্রিমলাইনারটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন বিমানের চেয়ারম্যান এয়ার মাশাল (অব.) ইনামুল বারী। বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ বিমানের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত ও সম্পূর্ণ নতুন বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ ‘রাজহংসের’। কিন্তু রাডার ব্যবস্থাপনায় ত্রুটির কারণে অতিরিক্ত ৪৮ ঘণ্টা সময় চেয়েছিলো বোয়িং কোম্পানি। এটি যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে বিমান বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা এখন ১৬টি।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হওয়া চারটি ড্রিমলাইনারের নাম পছন্দ ও বাছাই করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এগুলো হলো আকাশবীণা, হংসবলাকা, গাঙচিল ও রাজহংস। উল্লেখ্য, এর আগে ৪টি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, ২টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০-ইআর এর নামও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিয়েছেন। সেগুলো হলো- পালকি, অরুণ আলো, আকাশ প্রদীপ, রাঙা প্রভাত, মেঘদূত এবং ময়ূরপঙ্খী।

টানা ১৬ ঘণ্টা উড়তে সক্ষম এই ড্রিমলাইনার চালাতে অন্যান্য বিমানের তুলনায় ২০ শতাংশ কম জ্বালানি লাগবে। ‘রাজহংস’-এর আসন সংখ্যা ২৭১টি। বিজনেস ক্লাস ২৪টি আর ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাস। বিজনেস ক্লাসে ২৪টি আসন ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত রিক্লাইন্ড সুবিধা এবং সর্ম্পূণ ফ্ল্যাটবেড হওয়ায় যাত্রীরা আরামদায়কভাবে স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে ভ্রমণ করতে পারবেন। বিমানটিতে যাত্রীরা অন্যান্য আধুনিক সুবিধা, ইন্টারনেট ও ফোন কল করার সুবিধাও পাবেন।

আরও পড়ুন:

শুরুতেই ত্রুটি: কাল আসছে না ‘রাজহংস’

সম্প্রসারিত বহর দিয়ে বিমান তার চলমান রুটসমূহে ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবে বলে আশা করছে। সেই সাথে নতুন গন্তব্য সংযোজন প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। ১৩ মে, ২০১৯ ঢাকা-দিল্লী রুট চালু হয়েছে, ২৮শে অক্টোবর, ২০১৯ মদিনা এবং নভেম্বর, ২০১৯ গোয়াংজু নতুন রুট চালু হবে। এছাড়াও আগামীতে ম্যানচেস্টার, কলোম্বো, মালে, টোকিও এবং নিউ ইয়র্ক ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন আছে বলে জানিয়েছেন বিমানের চেয়ারম্যান। এছাড়াও বিমান কানাডা কমার্শিয়াল কোম্পানি হতে স্বল্প পাল্লার ০৩টি নতুন ড্যাশ৮- কিউ৪০০ ক্রয় করেছে, যা ২০২০ সালের মার্চ-জুন মাসের মধ্যে বহরে যুক্ত হবে।

এর আগে মালিকানা হস্তান্তর অনুষ্ঠান হয় সিয়াটলে। বিমানকে উড়োজাহাজের মালিকানা হস্তান্তর করেন বোয়িং পরিচালক (ডেলিভারি কন্টাক্ট) জন বর্বার। বিমানের পক্ষে পরিচালক (প্রকিওরমেন্ট অ্যান্ড লজিস্টিক সাপোর্ট) মো. মমিনুল ইসলাম মালিকানা বুঝে নেন। এ সময় বিমানের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব.) মোহাম্মদ ইনামুল বারী, পরিচালক (প্রশাসন) জিয়াউদ্দিন আহমেদসহ বিমান ও বোয়িংয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ২০০৮ সালে মার্কিন প্রতিষ্ঠান বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ১০টি নতুন বিমান কেনার জন্য ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে।









Leave a reply