বাজিতে লুডু খেলা নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা

|

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণাবড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার ট্রাকচালকের সহযোগী সবুর (২০) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। বাজিতে মোবাইলে লুডু গেইম খেলার টাকা নিয়েই তাকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আনিসুর রহমান। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এই তথ্য জানান তিনি।

সবুর জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার চারচারতলা গ্রামের মৃত রহমত আলীর ছেলে। গত ৫ জুন সকালে চরচারতলা গ্রামের সারকারখানা সড়কে একটি ট্রাক থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহতের মা হনুফা আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে আশুগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, মামলাটি প্রথমে আশুগঞ্জ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শীবাস চন্দ্র দাস তদন্ত করেন। পরবর্তীতে আসামি গ্রেফতার ও হত্যার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য মামলাটি জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এস.আই মো. সোহেল কামালের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ক্লু-হীন এই হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনে অনুসন্ধানের জানা যায়, চরচারতলা গ্রামের নিলু মিয়ার ছেলে মো. সুজন (২৮) এবং একই গ্রামের মো. মান্নানের ছেলে মো. রমজান (২০) হত্যার সাথে জড়িত।

ৱপুলিশ সুপার আরও জানান, গত ৬ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার পঞ্চবটি এলাকা থেকে আসামি মো. সুজনকে এবং ৭ সেপ্টেম্বর নরসিংদীর বেলাবো থানার নারায়ণপুর গ্রাম থেকে আসামি মো. রমজানকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আসামিরা হত্যার বিষয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

জবানবন্দিতে তারা জানায়, নিহত সবুর প্রায়ই বাজিতে মোবাইল ফোনে লুডু গেইম খেলত সুজন ও রমজানের সাথে। গত ৪ জুন দিবাগত রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে রমজান ও সুজনের সাথে ট্রাকে বাজিতে লুডু গেইম খেলেতে বসেন। রাত সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার দিকে লুডু খেলায় সবুরের কাছে হেরে যায় সুজন ও রমজান। পরে সজুন ও রমজান খরচের জন্য সবুরের কাছে কিছু টাকা চান। কিন্তু সবুর টাকা দিতে অপরগতা প্রকাশ করে। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে রমজান সবুর ঘুষি মারে। নিহত সবুরও রমজানকে ঘুষি মারে। এক পর্যায়ে রমজান ঘুষি মারলে সবুরকে ডান গালে ঘুষি মারলে সে ট্রাকের স্ট্রিয়ারিং উপর পরে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। আসামি সুজন ট্রাকের ভেতরে সবুরের দু’পা চেপে ধরে এবং আসামি রমজান ট্রাকের ভিতর থাকা রশি দিয়ে তার গলায় ফাঁস দেয়। পরবতীর্তে সবুরের মৃত্যু নিশ্চিত করতে আসামি রমজান ও সুজন কাঠের যোগান দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। তারপর মৃত্যু নিশ্চিত করে এরপর তারা দুইজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর দফতর) মো. আবু সাঈদ, ডিআইও-১ (বিশেষ শাখা) ইমতিয়াজ আহম্মেদ, জেলা গোয়েন্দা পুলিশে পরিদর্শক মো. জিয়াউল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।









Leave a reply