রুট পরিবর্তন: সাগরে থাকলেও নদীতে ইলিশ নাই

|

জাকারিয়া হৃদয়, উপকুল থেকে ফিরে
নানা কারণে ইলিশের রুট পরিবর্তনের প্রভাব পরছে সাগরমোহনা ও নদ-নদীতে। যে কারণে ভরমৌসুমে গভীর সাগরে দেখা মিললেও কাঙ্খিত ইলিশের দেখা নাই নদীতে। প্রশ্ন উঠেছে সরকারের ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা নিয়েও। যদিও মৎস্য অফিস বলছে-নিষেধাজ্ঞার ফল পাওয়া যাবে আরো ৬ মাস পরে। আর ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে নতুন অভয়আশ্রম সন্ধানে কাজ করার তাগিদ মৎস্য গবেষকদের।

কুয়াকাটার আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দরের একাধিক জেলেদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে যে, আষাঢ় থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত ইলিশের ভরমৌসুম। কিন্তু এ বছরই প্রথমবারের মত মৎস্য সম্পদ মজুদকরনের লক্ষে সরকারের ঘোষিত ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞায় গোটা আষাঢ় মাস বন্ধ থাকে ইলিশ ধরা। এরপর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াসহ নানা কারণে ঠিকভাবে সাগরে যেতে পারেনি উপকুলের জেলেরা। এতকিছুর পরেও ধার দেনায় জর্জরিত এ অঞ্চলের জেলেরা গভীর সাগরে গিয়েও কাঙ্খিত ইলিশ না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত।

এদিকে কক্সবাজার মৎস্য গবেষণা ইনষ্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আহমদ ফজলে রাব্বি যমুনা নিউজকে জানান, আবহাওয়ার তারতম্য, মোহনায় নাব্যতা সংকটের কারণে ইলিশের রুট পরিবর্তন হওয়ায় গভীর সাগরে কমবেশি পাওয়া গেলেও নদ-নদীতে ইলিশের দেখা নেই। তার মতে আষাঢ় শ্রাবণে পটুয়াখালীর উপকূল অঞ্চলে কম বৃষ্টি হওয়ায়ও কমবেশি দায়ী।

কুয়াকাটার আলীপুর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আনসার উদ্দিন মোল্লা যমুনা নিউজকে জানান, পটুয়াখালীর সীমানায় রামনাবাদ মোহনা ও শিববাড়িয়া চ্যানেলে একাধিক ডুবোচর থাকায় গভীর সাগর থেকে ইলিশ নদীতে প্রবেশ করতে পারছেনা। যে কারণে দ্রুত এসব এলাকা ড্রেজিং করে নাব্যতা ফিরে এনে ইলিশের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হবে।

তবে পটুয়াখালীর খেপুপাড়া মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের উর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এএসএম তানবিরুল হক যমুনা নিউজকে জানান, উৎপাদন বৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে ইলিশের নতুন নতুন অভয়আশ্রম সন্ধানে কাজ করে যাচ্ছেন মৎস্য গবেষকরা। তার মতে, গবেষণার কাজ সফল হলে ইলিশের উৎপাদন ক্রমান্বয়ে আরও বৃদ্ধি পাবে।

তিনি জানান, আগে দেশে ইলিশের পাচটি অভয়আশ্রম ছিল কিন্তু ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে গত দুই বছর আগে বরিশালের হিজরায় আরো একটি নতুন অভয়আশ্রম নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও আরো স্থান খোঁজা হচ্ছে-যেসব স্থানে ইলিশ বেশি পাওয়া যাচ্ছে তেমন স্থান।

এদিকে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার মনোজ সাহার মতে-আরও ছয় থেকে আট মাস পর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার ফলাফল ভোগ করতে পারবে জেলেরা। তার দাবি, গত এক মাস সাতদিনে পটুয়াখালীর মহিপুর-আলীপুর মৎস্য বন্দরে চার হাজার মেট্রিক টন ইলিশ আহরিত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, পটুয়াখালী জেলায় ৬৩ হাজার নিবন্ধিত জেলে ইলিশ শিকারে নিয়োজিত আছে। গত বছরের ন্যায় এবারও পর্যাপ্ত ইলিশ জালে ধরা পরবে এমনটা প্রত্যাশা সকলের।





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply