১২ দেশে কর্মী পাঠাতে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বাধ্যতামূলক, ছাড়পত্র না দেওয়ার নির্দেশ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪২ পিএম
সার্বিয়া, মলদোভা, বেলারুশ, কসোভো, বসনিয়া, জাপান, ইরাক, লাওস, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ইউক্রেন ও লিবিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নিয়োগানুমতি বা অনুমোদন ছাড়া বহির্গমন ছাড়পত্র (ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স) ইস্যু না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদেশগামী কর্মীদের প্রতারণা, শোষণ ও মানবপাচারের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনার প্রেক্ষিতে এক চিঠিতে সদস্য রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে এ বিষয়ে অবহিত করে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা)।
নির্দেশনা অনুযায়ী, উল্লিখিত ১২টি দেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বহির্গমন ছাড়পত্র দেওয়া যাবে না। এ কারণে নিয়োগপ্রক্রিয়া, সরকারি অনুমোদন ও ছাড়পত্রের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার আগে কোনো আর্থিক লেনদেন বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশে চাকরির জন্য শুধু ভিসা পাওয়া কিংবা কোনো রিক্রুটিং এজেন্সির কাছ থেকে চাকরির প্রস্তাব পেলেই নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত হয় না। কর্মসংস্থানের প্রকৃত সুযোগ, নিয়োগকর্তার পরিচয়, চাকরির চুক্তি, বেতন-ভাতা, ভিসার ধরন এবং বাংলাদেশের সরকারি অনুমোদন যাচাই করা জরুরি।
বিশেষ করে কম্বোডিয়া, লাওস ও ভিয়েতনামসহ কয়েকটি দেশে অনলাইন প্রতারণা ও স্ক্যাম কম্পাউন্ডে জোরপূর্বক আটকে রেখে প্রতারণামূলক কাজে বাধ্য করার ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে। চাকরির প্রলোভনে এসব দেশে গিয়ে বাংলাদেশিদের প্রতারণা, শোষণ, আটকে রাখা এবং মানবপাচারের শিকার হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ কারণে এসব দেশে কর্মসংস্থানের প্রস্তাব পাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিদেশগামী কর্মীদের কোনো প্রলোভন বা দালালের কথায় সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারি অনুমোদন ও বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করে নিরাপদ অভিবাসনের সব শর্ত যাচাইয়ের পরই বিদেশযাত্রার প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
/এনএ