×
Logo

জাতীয়

জামায়াতের বিবৃতি বিভ্রান্তিমূলক, নারীদের অন্তর্ভুক্তিতে শুভঙ্করের ফাঁকি: টিআইবি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম

জামায়াতের বিবৃতি বিভ্রান্তিমূলক, নারীদের অন্তর্ভুক্তিতে শুভঙ্করের ফাঁকি: টিআইবি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) গবেষণা নিয়ে দেওয়া বিবৃতিকে বিভ্রান্তিমূলক ও সত্যের অপলাপ বলে মন্তব্য করেছে সংস্থাটি। নারীদের জন্য পৃথক কমিটি গঠন করে দলটির সর্বস্তরে তাদের অন্তর্ভুক্তির দাবি করাকে ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ বলে মন্তব্য করেছে টিআইবি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা জানায় সংস্থাটি।

টিআইবি বলেছে, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিবন্ধনসংক্রান্ত বিধান অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সব পর্যায়ের কমিটিতে ন্যূনতম ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর ২০২৩-২৫ মেয়াদের ১৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে কোনো নারী সদস্য নেই। এটি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) সংশ্লিষ্ট বিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

সম্প্রতি ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি। এ গবেষণার তথ্য নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার গণমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে দাবি করেন, দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে ২১ জন নারী সদস্য এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরায় ১২২ জন নারী সদস্য রয়েছেন। এছাড়া, দলটির রুকনদের (সদস্য) মধ্যে প্রায় ৪৩ শতাংশ নারী।

জবাবে টিআইবি বলেছে, গবেষণায় জাতীয় বা কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ কিংবা কমিটিতে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। জাতীয় কাউন্সিল, সম্মেলন বা মজলিসে শুরায় নারী সদস্যের সংখ্যা এ গবেষণার বিবেচ্য বিষয় ছিল না। আরপিওতে দলের প্রতিটি কমিটিতে নারী সদস্য অন্তর্ভুক্তির কথা বলা হয়েছে। মোট নারী সদস্যের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে জামায়াতের পক্ষ থেকে মজলিসে শুরা ও রুকনদের নারী সদস্যের সংখ্যা তুলে ধরা গবেষণার বিষয়বস্তুর সঙ্গে প্রাসঙ্গিক নয়।

বিবৃতিতে টিআইবি আরও বলেছে, জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রে প্রতিটি সাংগঠনিক স্তরে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের জন্য পৃথক কমিটি ও কার্যক্রম পরিচালনার বিধান রয়েছে। নারী কর্মীদের জন্য পৃথক মজলিসে শুরা ও কর্মপরিষদও রয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে কোনো নারী সদস্য নেই। আমির, নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের মতো নেতৃত্বস্থানীয় পদেও নারীদের অন্তর্ভুক্তির নজির নেই।

টিআইবির মতে, নারীদের জন্য আলাদা কমিটি গঠন করলেই দলীয় কার্যক্রমে তাদের প্রকৃত অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হয় না। বরং এভাবে নারীদের নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। পৃথক কমিটিকে দলের সর্বস্তরে নারীর অংশগ্রহণ হিসেবে দাবি করা শুভঙ্করের ফাঁকি।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী কোনো আসনেই নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি। অথচ দলটির দাবি অনুযায়ী, সদস্যদের প্রায় ৪৩ শতাংশ নারী। এ বিষয়ে জামায়াতের বিবৃতিতে কোনো মন্তব্য করা হয়নি বলে জানিয়েছে টিআইবি।

বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের কয়েকটি ধারার সমালোচনাও করেছে সংস্থাটি। টিআইবি বলেছে, ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে সমাজ গঠন, আল্লাহর বিধান ছাড়া অন্য সব নিয়মনীতি প্রত্যাখ্যান, ইসলামী আকিদাবিরোধী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখা এবং মুসলিম ও অমুসলিম নাগরিকদের সদস্যপদের ক্ষেত্রে পৃথক শর্ত আরোপের মতো বিধান সংবিধানের জনগণের সার্বভৌমত্ব, ধর্মনিরপেক্ষতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ধর্ম ও লিঙ্গের ভিত্তিতে বৈষম্য না করার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

টিআইবি বলেছে, জামায়াতে ইসলামী গবেষণার ফলাফল অস্বীকার এবং অপ্রাসঙ্গিক তথ্য ব্যবহারের মাধ্যমে দলের প্রকৃত রাজনৈতিক চর্চাকে আড়াল করার চেষ্টা করছে। তবে গবেষণা প্রতিবেদনটি গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করায় জামায়াতে ইসলামীকে সাধুবাদ জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে গবেষণার সুপারিশ অনুযায়ী, জামায়াতসহ সব রাজনৈতিক দলকে নিজ নিজ দলের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে।

/এএম 

Logo