গায়ক অন্তুর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের প্রমাণ মেলেনি: আদালতে পুলিশের চূড়ান্ত রিপোর্ট
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী ও গায়ক আবু জাহিদ ওরফে অন্তুর বিরুদ্ধে ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী ও মডেল জান্নাতুন তাজরি অরাকে শ্লীলতাহানি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগের প্রমাণ পায়নি পুলিশ। প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা ও বিয়ের চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই এই সাজানো মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।
সম্প্রতি, আবু জাহিদ অন্তুকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ।
এদিকে, মিথ্যা মামলা দায়ের করায় জান্নাতুন তাজরি অরার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছে তদন্ত কর্মকর্তা।
মামলার নথি অনুযায়ী, আবু জাহিদ ওরফে অন্তু পেশায় একজন গায়ক, মডেল ও গিটার প্রশিক্ষক। বাদী জান্নাতুন তাজরি অরা ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী। ২০২৫ সালে টিএসসিতে গিটার শেখার সূত্রে তাদের পরিচয়। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে তাদের বিচ্ছেদ হয়। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ২ মে বিকেলে পণ্যের ফটোশুটের কথা বলে গুলশানের একটি ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে তাকে যৌন নিপীড়ন ও শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়। পরে ৩১ মে জান্নাতুন তাজরি অরা বাদী হয়ে গুলশান থানায় ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০’-এর ১০ ধারায় (যৌন পীড়ন) একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্ত করেন গুলশান থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) কে. এম. রাশিদুর রহমান। তদন্তে উঠে এসেছে, জান্নাতুন তাজরি অরা জাহিদ অন্তুকে প্রেমের প্রস্তাব দিলে তিনি রাজি হননি। এরপর দুজনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে হঠাৎ একদিন অন্তুর গুলশানের বাসার স্টুডিওতে পণ্যের ফটোশুটের প্রস্তাব দিলে অরা রাজি হন। ২ মে সকালে সেখানে গিয়ে অন্তুকে পাননি তিনি। একই দিন বিকেলে দুজনের দেখা হয়। পরে বাসার অফিসরুমে গিয়ে বসেন তারা। কিছুক্ষণ পর মোবাইল ফোন চার্জে রেখে বাসার নিচে যান অন্তু। এ সময় অন্তুর ফোনে কল এলে অরা ফোন রিসিভ করে নিজেকে তার স্ত্রী বলে দাবি করেন।
বিষয়টি জানতে পেরে কেন এমন মিথ্যাচার করেছেন, তা অরার কাছে জানতে চান অন্তু। ঘটনাস্থলে মামলার সাক্ষীরাও উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় জান্নাতুন তাজরি অরা চরম লজ্জিত ও অপমানিত বোধ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এই ঘটনার জের ধরেই অন্তুর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও নির্যাতনের অভিযোগ এনে মামলা করা হয়। তদন্তকালে বাদী জান্নাতুন অরা কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি বলেও চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবাদী ও বাদীর মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর), ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ এবং নিরপেক্ষ সাক্ষীদের বক্তব্য সংগ্রহ করে পুলিশ। কিন্তু অভিযোগের পক্ষে কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে বাদীর শারীরিক পরীক্ষা করানো হলে চিকিৎসকের প্রতিবেদনে কোনো আঘাত বা নিপীড়নের আলামত পাওয়া যায়নি বলে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অভিযুক্তকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা ও বিয়ের চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই এই সাজানো মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয় চূড়ান্ত প্রতিবেদনে।
গত ৩১ জুলাই পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে আবু জাহিদ অন্তুকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির আবেদন জানায়। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা দায়েরের অপরাধে বাদী জান্নাতুন তাজরি অরার বিরুদ্ধে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০’-এর ১৭ ধারায় প্রসিকিউশন দাখিলের জন্য বিজ্ঞ আদালতের অনুমতি প্রার্থনা করেছে পুলিশ।
এ বিষয়ে যমুনা টেলিভিশনকে জাহিদ অন্তু জানান, মিথ্যা মামলার কারণে সামাজিকভাবে তার সম্মানের ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসায়িকভাবেও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তিনি। এখন তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণ হচ্ছে যে তিনি নির্দোষ। কিন্তু তাঁর যে ক্ষতিটা হয়ে গেল, কোনো কিছু ভালোভাবে যাচাই-বাছাই না করেই তাকে যেভাবে গ্রেফতার করা হলো, সেই ক্ষতির দায় কে নেবে?
তদন্ত কর্মকর্তা কে. এম. রাশিদুর রহমান বলেন, তিনি তদন্ত করে অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাননি। চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন, এখন পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালতের।
/এসআইএন