×
Logo

জাতীয়

পাঠ্যবইয়ে রাজনৈতিক প্রতীক: দাঁড়িপাল্লার ছবি বাদ দিয়ে ফের ছাপা হচ্ছে বই

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৭ এএম

পাঠ্যবইয়ে রাজনৈতিক প্রতীক: দাঁড়িপাল্লার ছবি বাদ দিয়ে ফের ছাপা হচ্ছে বই

আগামী বছরের জন্য বিনামূল্যের পাঠ্যবইয়ে রাজনৈতিক দলের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা-নৌকার ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। সবচেয়ে বেশি বিতর্ক, ষষ্ঠ শ্রেণির, একটি বইয়ে, 'প্রজ্ঞার' আইকন হিসেবে দাঁড়িপাল্লার ছবি থাকা নিয়ে। 

শুরুতে, তদন্ত কমিটি গঠন ও এনসিটিবি'র এক কর্মকর্তাকে বদলি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরে, আরও ৯ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। মোট ১৭ কোটি টাকা গচ্চা দিয়ে, দাঁড়িপাল্লার ছবি থাকা বইগুলো, নতুন করে ছাপা হচ্ছে আবার।

একটি বই ছাপানোর আগে নানা কমিটি ও কর্মকর্তাদের অনুমোদনের পর চূড়ান্ত হয়। তবে, প্রশ্ন হচ্ছে, প্রজ্ঞার প্রতীক বা আইকন হিসেবে দাঁড়িপাল্লা কিভাবে যুক্ত হলো?

মূলত, ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য 'তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি' নামের বইটি প্রথম পড়ানো শুরু হয় গেলো বছর‍ ২০২৫ শিক্ষা বর্ষ থেকে। যেখানে উপাত্ত ও তথ্য’ বিষয়ে জ্ঞানের পিরামিডের ধারণা দিতে এই ছবিটি ব্যবহার করা হয়।

উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা- এমন চার স্তরের ধারণা তুলে ধরা হয় ইংরেজি শব্দে। প্রজ্ঞা বা উইজডমের আইকনে একটি দাঁড়িপাল্লার ছবি। চলতি ২০২৬ শিক্ষা বর্ষের বইয়ে, ইংরেজি উইজডমের বাংলা লেখা হয় 'বুদ্ধি'। আইকন হিসেবে দেয়া হয় মানুষের অবয়ব ভেতরে একটি পরমাণু মডেল। 


২০২৭ সালের বইয়ে উইজডমের বাংলা বুদ্ধি বাদ দিয়ে লেখা হয় প্রজ্ঞা। আইকন দেয়া হয় দাঁড়িপাল্লার। এ নিয়েই বিতর্কের শুরু।এনসিটিবি'র দাবি, কোনো ছবি পরিবর্তনের নির্দেশ দেয়া হয়নি।

এনসিটিবি'র চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ফখরুল মাওলা বলেন, 'কারিকুলাম পরিবর্তন হয়নি। যদি হতো, তাহলে সেটার সাথে কিছু ইলাস্ট্রেশন চেঞ্জ হতে পারতো। যেহেতু, কারিকুলাম পরিবর্তন হয়নি, ফলে সে জায়গায় কোথাও দাড়িপাল্লা ছিল কি না, অথবা সেটার থেকে বড় কথা হলো, যেহেতু আমরা '২৬ সালের সংস্করণ পরিবর্তন করিনি, সেহেতু এটি আসার কথা ছিল না।'   


কিন্তু এই অফিস আদেশ বলছে ভিন্ন কথা। যেখানে স্পষ্ট লেখা, আইসিটি বইয়ে ছবিগুলো পেশাদার আর্টিস্ট দিয়ে নতুন করে আঁকানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। যা দেখভালের দায়িত্ব দেয়া হয়, প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল জোবায়েরকে। এ ঘটনার পর তাকে বদলি করা হয় খাগড়াছড়িতে।

আব্দুল্লাহ আল জোবায়ের বলেন, উইজডোমের সিম্বল হিসেবে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার করাটা আসলে একাডেমিক অর্থে ভুল নয়। এটি কিন্তু একাডেমিক পেপারের একটি পার্ট। আর বইটি নিয়ে যখন আমরা কাজ করেছি, তখন আসলে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি মাথায় কাজ করেনি। এমন কোন চিন্তাও আমাদের ছিলো না।

বইটি সংশোধন পরিমার্জনের দায়িত্ব দেয়া হয় বেসরকারি আইসিটি এডুকেশন ফাউন্ডেশন প্রধান মজিবুর রহমানসহ আরও আটজনকে। অন্তত ৫টি ধাপে এনসিটিবির ২০ কর্মকর্তা এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত। সবার চূড়ান্ত মূল্যায়নের পরই বইটি প্রিন্ট হয়।  

তিনি আরও বলেন, যদি এটা ভুল হয়ে থাকে, তাহলে একেবারেই আমি ভুল করি নাই। কারণ, এটা পুরো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এসেছে। দিন শেষে, গেইট কিপার হচ্ছে সম্পাদনা বিভাগ। তারা এটা দেখবেন এবং তারাই এটার জন্য দায়বদ্ধ। 

আইকন আঁকার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো সাইম আহাম্মেদ নামের একজন আর্টিস্টকে। খন্ডকালিন হিসেবে যুক্ত থেকে বইটির অনেক ছবি ও ইলাস্ট্রেশন কৈরি করে তিনি। 

তিনি জানান, অনলাইন থেকেই নজেল পিরামিডের ছবিটি নিয়েছেন; যেখানে প্রজ্ঞার আইনকন দাঁড়িপাল্লা।

এনসিটিবি'র খণ্ডকালীন আর্টিস্ট সাইম আহাম্মেদ বলেন, ইলাস্ট্রেশনের জন্য আমাকে এনসিটিবি থেকে ডাকা হয়। কিছু কাজ আগে থেকেই করা ছিল। সেগুলো একটু সংশোধন করতে হয়েছে। এছাড়াও কিছু কাজ নতুন করে করতে হয়েছে। স্যাররা আমাদের যেভাবে গাইড করেছিলো, আমরা সেভাবেই কাজগুলো করে সাবমিট করেছি। 

বিতর্ক এখানেই শেষ নয়; প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত, পাঠ্যবইয়ের বিভিন্ন অংশ রয়েছে নৌকার অন্তত ৮০টি ছবি। 

আসছে বছর, নতুন বইয়ে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছবি নিয়েও রয়েছে আলোচনা।

নেটিজেনরা বলছেন, প্রয়োজনে যেকোনো প্রতীকই রাখা যেতে পারে। তবে পাঠ্যবইকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানো কাম্য নয়। 

/এআই 

Logo