×
Logo

জাতীয়

নিজ নিজ কর্মের মাধ্যমে অনুপ্রেরণাদায়ী তিন ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম

নিজ নিজ কর্মের মাধ্যমে অনুপ্রেরণাদায়ী তিন ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজ নিজ কর্ম ও উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা ৩ অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের জীবনসংগ্রাম, ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন তিনি। এ সময় তাদের কাজের প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। 

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বুয়েট থেকে পাস করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তারা। তাদের কথা শোনার পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পাস করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নায়লা

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা তিনজনের একজন নায়লা শারাফ। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। 

৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা। গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজেই তৈরি করেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।

দুই হাত ছাড়াই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা আলতাফের

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা আরেক অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তি নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন। জন্ম থেকেই তার দুই হাত নেই। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। অদম্য আলতাফ পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।

নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থ দিয়ে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। সেখানে শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়ে লেখালেখি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন আলতাফ।

তার জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিন দশক ধরে গাছ লাগাচ্ছেন রেজাউল কিবরিয়া

বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম দিয়ে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।

পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন রেজাউল কিবরিয়া। পরে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তিনজনের প্রত্যেকের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতো মানুষের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে উৎসাহ দেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

/এনএ 

Logo