ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবার কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি-পেশা ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এমন এক মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে ধর্ম-বর্ণ কিংবা সামাজিক পরিচয় কোনো মানুষের অধিকার ও সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্তরায় হবে না। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের নাগরিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।
মতবিনিময় সভায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি বাড়িয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ৫ দিন করায় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তারা জানান, ছুটির এই মেয়াদ বৃদ্ধি দেশজুড়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসবের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সভায় হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা তাদের নিজ নিজ সমস্যা, প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা ও বিভিন্ন দাবি-দাওয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং আশ্বস্ত করে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব, আমরা তার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে আপনাদের পাশে থাকব। আপনাদের সব যৌক্তিক দাবি ও সমস্যা সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে। এ সময় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে শারদীয় দুর্গোৎসবের বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রী হিন্দু সম্প্রদায়কে দুর্গাপূজা এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে আসন্ন পবিত্র কঠিন চীবর দান উপলক্ষে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।
মতবিনিময় সভা শেষে ধর্মীয় উৎসব উদযাপনে বিশেষ অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী। হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের প্রার্থিত ৪ কোটি টাকার বিপরীতে বিশেষ বিবেচনায় ৫ কোটি টাকা এবং বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ২ কোটি টাকা চাওয়ার প্রেক্ষিতে বাড়িয়ে মোট ৩ কোটি টাকার আর্থিক বরাদ্দের চেক হস্তান্তর করা হয়। সংশ্লিষ্ট ট্রাস্ট ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এই অর্থ সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে দেওয়া হবে।
উক্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য মিস সুবর্ণ ঠাকুর শিকদার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সহ-সভাপতি তপন চন্দ্র মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও, দৈনিক কালবেলার সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, বিএনপির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সুশীল চন্দ্র বড়ুয়াসহ উভয় সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
/এএ