স্ত্রী চাইলে তাত্ক্ষণিক পরিশোধ করতে হবে বকেয়া দেনমোহর: হাইকোর্টের রায়
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৮ এএম
বিয়ের সময় বকেয়া রাখা দেনমোহর পরবর্তীতে স্ত্রী দাবি করা মাত্রই স্বামীকে তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করতে হবে বলে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই দেনমোহর পাওয়ার জন্য স্ত্রীকে বিবাহবিচ্ছেদ কিংবা স্বামীর মৃত্যুর মতো ঘটনার জন্য আর অপেক্ষা করতে হবে না।
দেনমোহর সংক্রান্ত একটি সিভিল রিভিশন মামলার নিষ্পত্তিতে বিচারপতি আব্দুর রহমানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এই যুগান্তকারী পর্যবেক্ষণ ও রায় প্রদান করেন। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে এ রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।
পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়ে বলেন, আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোনো স্বামী যদি দেনমোহর পরিশোধে অযথা গড়িমসি বা কালক্ষেপণ করে এবং স্ত্রীকে দেনমোহর আদায়ের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য করে, তবে সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালত স্বামীকে মূল দেনমোহরের পাশাপাশি স্ত্রীকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারবে।
হাইকোর্ট তার পর্যবেক্ষণে আরও স্পষ্ট করেন, দেওয়ানি চুক্তি বা আইনের সুস্পষ্ট ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোনো অবস্থাতেই দেনমোহরের কোনো অংশ কমানো, হ্রাস করা কিংবা মওকুফ করার আইনি এখতিয়ার কোনো আদালতের নেই।
উল্লেখ্য, বিদ্যমান মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালায় বকেয়া দেনমোহরের বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও তা ঠিক কবে বা কখন পরিশোধ করতে হবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো আইনি ব্যাখ্যা ছিল না। ফলে সমাজে প্রচলিত একটি ভ্রান্ত ধারণা গড়ে উঠেছিল যে বিবাহবিচ্ছেদ কিংবা স্বামীর মৃত্যুর পরই কেবল বকেয়া দেনমোহর দাবিযোগ্য হয়। হাইকোর্টের এই আদেশের মাধ্যমে সেই দীর্ঘদিনের আইনি অস্পষ্টতা ও জটের অবসান ঘটল।
রায়ে পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন সুরার প্রাসঙ্গিক আয়াতের রেফারেন্স টেনে আদালত উল্লেখ করেন, ইসলামে দেনমোহর ফেলে রাখা বা বকেয়া রাখার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি; বরং তা স্ত্রীর তাৎক্ষণিক ও অবিচ্ছেদ্য প্রাপ্য অধিকার।
এই রায়কে দেশের আইনি অঙ্গন ও নারীর অধিকার সুরক্ষায় এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন মামলার আইনজীবী ব্যারিস্টার ইশরাত হাসান। তিনি বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে বকেয়া দেনমোহর আদায়ের ক্ষেত্রে নারীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার পথ বন্ধ হলো। এখন আর আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোনো স্বামী দেনমোহর পরিশোধ নিয়ে টালবাহানা করতে পারবে না। নারীর সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই রায় দেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি বড় নজির হয়ে থাকবে।
/এএ