×
Logo

জাতীয়

ডিজিটালের আওতায় আসছে বিবাহ-তালাক নিবন্ধন, কী কী সুবিধা মিলবে?

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম

ডিজিটালের আওতায় আসছে বিবাহ-তালাক নিবন্ধন, কী কী সুবিধা মিলবে?

বাংলাদেশের বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটাল ব্যবস্থায় নিয়ে আনার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এর ফলে তথ্য গোপন করে একাধিক বিয়ে, বাল্যবিবাহসহ নানা অনিয়ম ঠেকানো সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে পর্যায়ক্রমে বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্ম নিবন্ধন ও পাসপোর্টের কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও বলেন।

শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর নিকেতনে ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের জন্য আয়োজিত ‘অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনে সফটওয়্যারের ব্যবহারবিধি’ শীর্ষক ১০ দিনব্যাপী আবাসিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, অনলাইনে বিবাহ ও নিকাহ নিবন্ধনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের বৈবাহিক সম্পর্কের তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেজে সংরক্ষণ করা। এতে কোনো এলাকায় কতজনের বিয়ে হচ্ছে, সেই তথ্যও সহজে পাওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, কোনো এলাকায় বাল্যবিবাহ হচ্ছে কিনা, সেটিও অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে দেশে আইন রয়েছে এবং এর যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তা তুলে ধরতে এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী।

এর সুবিধার কথা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, তথ্য গোপন করে একাধিক বিয়ে ঠেকাতেও অনলাইন নিবন্ধন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আইনমন্ত্রীর ভাষ্যমতে, কোনো ব্যক্তি এক জায়গায় বিয়ে করার পর তথ্য গোপন করে অন্য এলাকায় গিয়ে আবার বিয়ে করতে চাইলে অনলাইনে তার আগের বৈবাহিক সম্পর্কের তথ্য দেখা যাবে। এর ফলে আগের স্ত্রীর প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া পরবর্তী বিয়ে নিবন্ধনের বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব হবে।

এছাড়াও ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী বা সন্তানদের মধ্যে উত্তরাধিকার কিংবা বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে অনলাইনে সংরক্ষিত তথ্য প্রমাণ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। বলেন, বিবাহের রেজিস্ট্রেশন অনলাইনে থাকলে ভবিষ্যতে কেউ মিথ্যা দাবি করতে পারবে না। ২০-৫০ বছর পরও অনলাইন রেকর্ড থাকায় কে কার স্ত্রী বা সন্তান তা সহজেই যাচাই করা সম্ভব হবে। ফলে এ ধরনের বিরোধও বন্ধ হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে অনলাইনে সংরক্ষিত বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য এনআইডি ও পাসপোর্টের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে এসব তথ্য সংযুক্ত হলে একজন ব্যক্তির বিভিন্ন তথ্য একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আসবে।

তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে সরকার একটি মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন বিভাগ, বিশেষ করে সাব-রেজিস্ট্রার ও নিকাহ রেজিস্ট্রারদের কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ব্যবস্থার আওতায় আনতে কাজ চলছে।

এর আগে, গত বছরের ডিসেম্বরে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটালাইজ করার নির্দেশ দিয়ে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এ রায় দেন।

/এসআইএন


Logo