বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম
জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অর্থায়ন বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। পাশাপাশি বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ‘দ্য রোড টু আনতালিয়া: ক্লাইমেট ফাইন্যান্স অ্যান্ড এনডিসি ৩.০’ শীর্ষক প্রাক-কপ৩১ (Pre-COP31) আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট (বিসিসিটি), পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং ইউনেস্কো চেয়ার যৌথভাবে এ ওয়েবিনারের আয়োজন করে।
শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন অন্যতম। পাশাপাশি শহরাঞ্চলের বায়ুদূষণ কমাতে বৈদ্যুতিক বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব বাস আমদানিতে ব্যবসায়ীদের কর কমানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ইটভাটাগুলোকে পরিবেশবান্ধব করা এবং সেখানে কাঠের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধে সরকার কাজ করছে।
ওয়েবিনারে বক্তারা উন্নয়নশীল দেশগুলোর ‘এনডিসি ৩.০’ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন বাড়ানোর ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে জলবায়ু অগ্রাধিকারগুলোকে বাস্তবসম্মত ও বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্পে রূপান্তরের তাগিদ দেন তারা।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০৩৫ সালের মধ্যে উন্নত দেশগুলোর নেতৃত্বে বছরে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার জলবায়ু অর্থায়ন সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে। একই সময়ে সব উৎস থেকে জলবায়ু অর্থায়ন বছরে ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর শুধু অভিযোজন খাতেই বছরে প্রায় ৩১০ থেকে ৩৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রয়োজন হতে পারে।
বিসিসিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রওনাকুল ইসলাম বলেন, ২০০৯ সালে নিজস্ব অর্থায়নে জাতীয় জলবায়ু তহবিল গঠন করে বাংলাদেশ বিভিন্ন অভিযোজন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। তবে বাড়তে থাকা জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সুযোগ কাজে লাগানো জরুরি।
একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ জানান, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ওয়েবিনারে ইন্দোনেশিয়া, স্পেন, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক ও উগান্ডার জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। তারা গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ), বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক ও বেসরকারি খাত থেকে অর্থায়ন সংগ্রহের সুযোগ ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আলোচনা করেন।
আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর ২০২৬ তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে কপ-৩১ সম্মেলন। এর আগে আয়োজিত এ ওয়েবিনার জলবায়ু অর্থায়ন ও এনডিসি ৩.০ বাস্তবায়নে নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অংশীদারিত্ব জোরদারে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আয়োজকরা।
/এনএ