‘পুলিশ-রাজনৈতিক যোগসাজশেই কি রাড্ডা হাসপাতালে হামলা?’— প্রশ্ন হাসনাত আব্দুল্লাহর
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৫ এএম
মিরপুরের রাড্ডায় হাসপাতালে হামলা নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, যদি সত্যিই এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও পুলিশের যোগসূত্র থেকে থাকে, তাহলে সেটি শুধু একটি জমি দখলের ঘটনা নয়, এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, আইন ও প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক প্রভাবের একটি নগ্ন উদাহরণ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে ‘মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র: ১০ কাঠা জমি দখলের জন্য পুলিশ, এমপি ও রাজনৈতিক নেতাদের নেক্সাস’ শীর্ষক এক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ এ কথা লেখেন।
পোস্টে হাসনাত লেখেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে মিরপুরের রাড্ডা হাসপাতালে নৃশংস হামলা ও দখল হয়। তথ্যমতে, বিএনপির সংরক্ষিত আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির অনুসারী এবং উত্তর মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফ প্রায় দুই থেকে আড়াইশো লোক নিয়ে রাড্ডা হাসপাতালে হামলা চালান। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি আসে সেদিন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে।
হাসনাত আরও লেখেন, বৃহস্পতিবার হামলার সময় হাসপাতালটির সামনে পুলিশের দুটি গাড়ি উপস্থিত ছিল বলে টেলিভিশনের খবরে দেখা গেছে। হামলা শুরু পর পুলিশ সেখান থেকে সরে যায়। মিরপুরের পুলিশের ডিসি এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানান, শাহ আলী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলমকে ফোন করেছিলেন। ওসি তাকে জানান, একটি পক্ষের কাছে মালিকানার কাগজপত্র রয়েছে। ওসি সেই ব্যক্তিকে ডিসির সঙ্গে ফোনে কথা বলিয়ে দেন। এর মানে হামলা করতে যাওয়া ব্যক্তিদের কেউ একজন থানায় ছিলেন বা ওসির সামনে ছিলেন।
পোস্টে হাসনাত উল্লেখ করেন, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের আগে এই জমিটি ছিল বিহারিদের সম্পত্তি। মুক্তিযুদ্ধের পর জমিটি পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এর মালিক হয়। গৃহায়ন ব্যবহারের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে। এরপর থেকেই ১৯৭৪ সাল থেকে এই জমিতে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালিত হয়ে আসছে। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি নামে জমিটি গৃহায়নের কাছ থেকে লিজ নেয়। এ নিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের হয়, যা এখনও চলমান। এদিকে আওয়ামী লীগের এক নেতা জমিটিকে পারিবারিক দাবি করে মামলা করেন। তারা অবশ্য পলাতক ৫ আগস্টের পর থেকে।
কুমিল্লা-৪ আসনের এ সংসদ সদস্য লেখেন, সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি আবার দুই পক্ষ। দুই পক্ষই বিএনপি। দখলদার পক্ষটির সঙ্গে রয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমদ মিষ্টি, যিনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সাবেক বিএনপি কাউন্সিলর প্রয়াত সাঈদুর রহমান নিউটনের স্ত্রী ও বিএনপি নেতা নাসিরুদ্দিন পিন্টুর বোন।
প্রশ্ন রেখে হাসনাত লেখেন, রাড্ডার জমির বিষয়টি একটি দীর্ঘদিনের আইনি বিরোধ হয়, যদি জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা ও রিট চলমান থাকে, তাহলে কোনো পক্ষ কীভাবে শত শত লোক নিয়ে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে দখল বুঝে নিতে পারে? আরও বড় প্রশ্ন, পুলিশের উপস্থিতিতে কীভাবে এমন একটি হামলা সংঘটিত হলো এবং পুলিশ কেন ঘটনাস্থল থেকে সরে গেল? আর যারা দখল নিতে এসেছিল, তাদের কাছে কাগজপত্র থাকার দাবি কি তাদের একটি চলমান আইনি বিরোধের মধ্যে নিজেরাই সম্পত্তি দখল নেওয়ার অধিকার দেয়?
হাসনাত লেখেন, পুরো ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি হচ্ছে কেবল দখলের দৃশ্যমান একটি ব্যানার। এর আড়ালে প্রকৃত উদ্দেশ্য হচ্ছে সরকারি এমপি, পুলিশ ও দলের দ্বারা মিরপুর-১ এর ১০ কাঠা জমিটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। এই ১০ কাঠা জমির বর্তমান বাজারমূল্য কমপক্ষে ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকা বলে জানা যায়। তবে, প্রশ্ন এখানে শুধু রাড্ডা হাসপাতালের ওপর হামলা বা দখল নেওয়া নয়। প্রশ্ন হলো, ১৯৭৪ সাল থেকে যে জায়গায় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালিত হয়ে আসছে, আদালতে যার মালিকানা ও লিজ নিয়ে মামলা চলমান, সেই জায়গা কি রাজনৈতিক প্রভাব ও পেশিশক্তির মাধ্যমে দখল হয়ে যাবে?
শেষে তিনি লেখেন, আর যদি সত্যিই এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও পুলিশের যোগসূত্র থেকে থাকে, তাহলে সেটি শুধু একটি জমি দখলের ঘটনা নয়, এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, আইন ও প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক প্রভাবের একটি নগ্ন উদাহরণ।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর মিরপুর-১-এ রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মোহাম্মদ হানিফসহ অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
/এমএইচআর