বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত ছড়াকার, কবি ও শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন আর নেই। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ ও অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন আখতার হুসেন। এর আগে প্রস্টেট ক্যানসার হয়েছিল তার, চিকিৎসায় সুস্থও হয়ে উঠেছিলেন। তবে এবার তাকে আর ফেরানো গেলো না।
জানা যায়, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার মরদেহ রাখা হবে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে সিরাজগঞ্জে।
১৯৪৫ সালের ১ নভেম্বর জন্ম নেওয়া আখতার হুসেনের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের নানা অধ্যায়। তিনি বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর অন্যতম প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন। শিশুসংগঠন খেলাঘরের সংগঠক হিসেবেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তার লেখা ‘আমরা তো সৈনিক, শান্তির সৈনিক’ গানটি ছাত্র ইউনিয়ন ও খেলাঘরের সংগঠন সংগীত হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
মহান মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোয় আখতার হুসেনের কলম অস্ত্র হয়ে উঠেছিল। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে তার লেখা অজিত রায়ের সুরে তিমির নন্দীর গাওয়া কালজয়ী গান ‘স্বাধীন স্বাধীন দিকে দিকে জাগছে বাঙালিরা, আজ রুখবে তাদের কারা’ জনপ্রিয় হয়েছিল।
আখতার হুসেন প্রায় ছয় দশকের বেশি শিশু-কিশোরদের জন্য লিখেছেন। ছড়া, গল্প, কবিতা, নাটক ও গানের মাধ্যমে তিনি সাহিত্য ও সংস্কৃতির পরিসরে নিজের স্বাক্ষর রেখেছেন। জীবনীধর্মী লেখাতেও ছিল তার বিশেষ অবদান।
তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা শতাধিক। উল্লেখযোগ্য বই– ‘শিশু-বিশ্বকোষ’, ‘সমুদ্র অনেক বড়’, ‘রামধনুকের সাঁকো’, ‘উল্টোপাল্টা’, ‘হালচাল’, ‘আমার দুটো ডানা’, ‘ও হাওয়া ও হাওয়া’, ‘পাজি বেড়ালের শাস্তি’, ‘ফ্রিডম ফাইটার’, ‘কর্ণকুসুম ও কালোপাখার প্রজাপতি’, ‘খেলাঘরের পুতুলগুলো’, ‘ছোটদের চারণ কবি মুকুন্দদাস’ ইত্যাদি।
/এএম