×
Logo

জাতীয়

স্পিকারের সঙ্গে বিদায়ী চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম

স্পিকারের সঙ্গে বিদায়ী চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়ে তাদের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, সংসদীয় সহযোগিতা, চীনা বিনিয়োগ, রোহিঙ্গা সংকট, জ্বালানি, অবকাঠামো ও আঞ্চলিক যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।

সাক্ষাতের সময় স্পিকারের হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে চীন দেশের উন্নয়নে ব্যাপক সহযোগিতা করে আসছে।

তিনি আরও বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক উন্নয়নে প্রথম উদ্যোগ নেন। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুই দেশের সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়নে অবদান রাখেন।

১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের কথা উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, সেই সময়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, খুন ও অর্থ পাচারের কারণে দেশের জনগণ তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে বাংলাদেশ-চীন সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন স্পিকার।

এছাড়া বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনে চীনের সহযোগিতা চান তিনি। এ সংকটের কারণে বাংলাদেশকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলেও জানান স্পিকার।

রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

তিনি আরও বলেন, চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। মেগাপ্রকল্পের পাশাপাশি বাংলাদেশে মাঝারি ও ছোট প্রকল্পে চীনের বিনিয়োগও বাড়ছে।

বাংলাদেশকে এ অঞ্চলের একটি উৎপাদনভিত্তিক কেন্দ্রে পরিণত করতে চীন সহযোগিতা করতে চায় বলেও জানান রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন লজিস্টিক পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যেতে পারে।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ বাড়ানো, বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন করিডোর স্থাপন, রোহিঙ্গা সংকট ও জ্বালানি বিষয়ে মতবিনিময় হয়।

স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ সবসময় ‘ওয়ান চায়না পলিসি’ সমর্থন করে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও এ সমর্থন অব্যাহত রাখবে। ভোলাসহ বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনের সুযোগ কাজে লাগাতে চীনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তিনি আমন্ত্রণ জানান।

ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের নির্বাহী পরিষদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরীর প্রার্থিতায় চীনের সহযোগিতাও চান স্পিকার।

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বহুমাত্রিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন।

ডেপুটি স্পিকার সম্প্রতি চীনের ইউনান প্রদেশে তার সফরের কথা উল্লেখ করে সেখানে পাওয়া আতিথেয়তা, আন্তরিকতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সহযোগিতার প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে চীনের বিদ্যমান সহযোগিতারও প্রশংসা করেন তিনি।

কায়সার কামাল জানান, দুই দেশের জনগণের উন্নয়নে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশ কাজ করতে চায়। বাংলাদেশের গণতন্ত্র শক্তিশালী করা, জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা চান তিনি।

রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, ১৯৮০ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চীন সফর দুই দেশের ভবিষ্যৎ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করেছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই সফর বাংলাদেশ-চীনের সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারিত করবে।

/এমএইচআর

Logo