×
Logo

জাতীয়

আইফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে পরিকল্পিত হত্যা, মাথায় আঘাতে মৃত্যু: পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৮ পিএম

আইফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে পরিকল্পিত হত্যা, মাথায় আঘাতে মৃত্যু: পুলিশ

ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নিতে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। তিনি জানান, বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাতে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লায় কিশোর অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

পুলিশ সুপার বলেন, জিডির ভিত্তিতে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করা হয়। সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে জঙ্গলে নিয়ে যায়। এর ভিত্তিতেই তাকে আটক করা হয়। পরে নিখোঁজ অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন স্বীকার করে, আইফোন ছিনিয়ে নিতেই তাকে জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। এর সঙ্গে যুক্ত ছিল ফাহাদ। পরে ফাহাদকে আটক করা হলে জিজ্ঞাসাবাদে ফাহাদ জানায়, কামরুলও জড়িত ছিল।

পুলিশ সুপার বলেন, এরপরই তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তুহিনের বাসা থেকে আইফোন উদ্ধার করা হয়।

অপ্রতিমকে হত্যার বর্ণনায় তিনি বলেন, শুক্রবার বিকেল ৫টা-৬টার দিকে ওই জঙ্গলে আইফোন ছিনিয়ে নিতে গেলে অপ্রতিম তাদের বাধা দেয়। এতে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এরপর প্রথমে তুহিন, পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত হলে ফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তারা পালিয়ে যায়।

এছাড়াও এই ঘটনায় সিয়াম নামের আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। এতে অন্য কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান পুলিশ সুপার।

প্রসঙ্গত, বুকফাটা আর্তনাদে একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন তার মা-বাবা। একইসঙ্গে স্বজন ও প্রতিবেশীদের পাশাপাশি সারাদেশের মানুষের চোখের পানিতে শেষ বিদায় জানিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছে নির্মম শিকার ১৩ বছরের এই কিশোরকে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নিখোঁজের খবরে আকুতি ছিল, যেন সে জীবিত ফিরে আসুক। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় জানাজা শেষে কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে গন্ধমতি স্কুল মাঠে দ্বিতীয় এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা অংশ নেন। ছিলেন পরিবারের সদস্য ও স্বজনরাও।

উল্লেখ্য, অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে শালবন বিহারে ছবি তুলতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় সে। সন্ধ্যার পরও বাসায় না ফেরায়, তার মা কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

/এসআইএন



Logo