×
Logo

জাতীয়

নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ, কার্যকর চলতি বছরের জুলাই থেকে

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম

নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ, কার্যকর চলতি বছরের জুলাই থেকে

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বা নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। নতুন এই বেতন কাঠামো অনুযায়ী গ্রেডভেদে সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ শিরোনামে এ গেজেট প্রকাশ করা হয়।

গেজেটে বলা হয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। তবে এটি তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি চাকরিজীবীরা তাদের প্রাপ্য বকেয়া বেতনও পাবেন।

গেজেট অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ পাবেন। একই সময়ে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা পাবেন ৫০ শতাংশ।

দ্বিতীয় ধাপে ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের জন্য এই হার হবে ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য ৭৫ শতাংশ।

এরপর তৃতীয় ধাপে ১ জুলাই ২০২৭ থেকে সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বার্ষিক ইনক্রিমেন্টসহ নতুন স্কেলের শতভাগ মূল বেতন পাবেন।

তবে মূল বেতন বাড়লেও ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, উৎসব ভাতাসহ অন্যান্য সব ভাতা ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রচলিত হারে দেওয়া হবে। নতুন হারে ভাতাদি কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।

গেজেটে চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রে নতুন নিয়মের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত মাসিক ৩ হাজার টাকা এবং ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য মাসিক ৪ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে বাংলা নববর্ষ ভাতা বহাল থাকবে।

অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে বর্ধিত নিট পেনশন কার্যকর হবে। ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে তারা শতভাগ নিট পেনশন পাবেন। বয়স অনুযায়ী পেনশনভোগীরা চিকিৎসা ভাতা হিসেবে ৩ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত পাবেন।

নতুন বেতন কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে। এতে তুলনামূলকভাবে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার বেশি রাখা হয়েছে।

প্রথম থেকে দশম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। ফলে প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকায় দাঁড়াবে। অন্যদিকে, ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। এর ফলে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হবে।

উল্লেখ্য, দেশের প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনভোগীর জন্য নতুন এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা।

এর আগে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে শনিবার নতুন পে-স্কেলের গেজেট আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।

প্রসঙ্গত, অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক দশক পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করা হয়। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের ওই কমিশন ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।

পরবর্তীতে সরকার গঠনের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে প্রধান করে ১০ সদস্যের বাস্তবায়ন ও সুপারিশ পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশের ভিত্তিতে ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুমোদন দেওয়া হয়।

/এনএ 

Logo