×
Logo

জাতীয়

বেনজীরসহ পলাতক আসামিদের ফেরাতে শৈথিল্য নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৪ এএম

বেনজীরসহ পলাতক আসামিদের ফেরাতে শৈথিল্য নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বেনজীর আহমেদসহ বিদেশে অবস্থানরত কোনো পলাতক আসামিকে আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের শৈথিল্য প্রদর্শন করবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, বিদেশে থাকা পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোল ও বিভিন্ন দেশের মিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে সরকার।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়ে আলোচনার সময় এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার বক্তব্যের আগে ও পরে বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য বিদেশে অবস্থানরত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের কাছে জোরালো পদক্ষেপ দাবি করেন।

উল্লেখ্য, শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের সময় ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন বেনজীর আহমেদ। পরে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) থাকার সময় তার বিরুদ্ধে গুম, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে।

২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ ছাড়েন বেনজীর। সম্প্রতি দুবাইয়ে তাকে আটক করা হয়েছে— এমন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনার দাবি ওঠে জাতীয় সংসদে। এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম প্রস্তাব দেন। তার প্রস্তাবকে সমর্থন জানান অন্য সংসদ সদস্যরাও।

ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম বলেন, ভুক্তভোগীদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। এ কাজে সরকারের যে সহযোগিতা প্রয়োজন, তা দিতে সংসদ ও দেশের মানুষ প্রস্তুত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংসদ সদস্য তাসমিয়া প্রধান প্রশ্ন তোলেন, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার সুযোগ থাকার পরও কেন তাকে ফিরিয়ে আনা হয়নি। তিনি বলেন, এ বিষয়ে জাতি সরকারের কাছ থেকে স্পষ্ট জবাব চায়।

সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বিদেশে থাকা মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের পাসপোর্ট বাতিল করে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

সংসদে বেনজীরসহ বিদেশে অবস্থানরত পলাতক ব্যক্তিদের বিষয়ে আলাদা একটি বিশেষ সেল গঠনের প্রস্তাবও আসে। জামায়াতের সংসদ সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, এই সেলের মূল কাজ হবে বিদেশে থাকা পলাতকদের শনাক্ত করা এবং তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় মনোযোগ দেওয়া।

বিএনপির সংসদ সদস্যরাও বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ ও তার সময়ের নিপীড়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তাকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান।

এ সময় ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাসহ সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাদেরও দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান। তিনি বলেন, প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়ে প্রত্যেককে দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের কৃতকর্মের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, বিদেশে থাকা পলাতক আসামিদের ফেরানোর বিষয়টি কেসভিত্তিক বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হবে। এ কাজে সরকারের পাশে থাকার জন্য সংসদ সদস্যদের সহযোগিতাও চান তিনি।

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, বেনজীর আহমেদসহ বিদেশে অবস্থানরত কোনো পলাতক আসামিকে আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখাবে না।

তিনি জানান, বেনজীর আহমেদের বর্তমান অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা, তাকে দেশে ফেরানোর প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া, কথিত একাধিক পাসপোর্টের অভিযোগ যাচাই এবং দেশে-বিদেশে অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ শনাক্ত ও আইনানুগভাবে জব্দের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

এদিকে, ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায়ও সংসদে ক্ষোভ ও নিন্দা জানান সংসদ সদস্যরা। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

এ ঘটনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কর্মীদের কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে সংসদে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, এ বিষয়ে ইতালি সরকারের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করেছে বাংলাদেশ। বাঁধনকে সর্বোচ্চ কনস্যুলার সহযোগিতা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তিনি বাঁধনের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাকে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ইতালিতে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মিশনগুলো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে।

/এনএ 


Logo