২৬ বছর আগের মামলায় কারাগারে ১০৪ বছরের বৃদ্ধ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম
কিশোরগঞ্জে ২৬ বছর আগের একটি ডাকাতি ও দ্বৈত হত্যা মামলায় উচ্চ আদালতের দেওয়া ১০ বছরের সাজা ভোগ করতে কারাগারে গেছেন ১০৪ বছর বয়সী নুর মোহাম্মদ।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করেন তিনি। তবে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিজানুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অসুস্থতার কারণে নিজ খরচে পরিবহনের মাধ্যমে কারাগারে যাওয়ার আবেদন করেছিলেন নুর মোহাম্মদ। তবে আদালত সেই আবেদনও নামঞ্জুর করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী— ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে কিশোরগঞ্জের বড় বাজার এলাকায় দোকান মালিক মো. ফেরদৌসের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় মোশাররফ হোসেন ও আবদুল কবিরকে হত্যা করা হয়। ডাকাতেরা দোকানের সিন্দুক থেকে সাড়ে ১২ লাখ টাকা ও ১১০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ফেরদৌস কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন কিশোরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক আনোয়ার হোসেন। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলাটি বিচারের জন্য কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। বিচার চলাকালে ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে হাবিবুর রহমান হাবিব, শাহ আলম, মইন উদ্দিন ওরফে মঈন উদ্দিন, নুর মোহাম্মদ, আলম, দিলু ওরফে দেলোয়ার হোসেন, শুকুর আলী ও আলতু মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
জসিম, সিদ্দিক, আমির চান, কবির ও বজলুর রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মামলার বিচার চলাকালে হারিছ মিয়া মারা যান।
পরে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে ২০০৭ সালের ১৯ আগস্ট উচ্চ আদালত আলমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। নুর মোহাম্মদের সাজা কমিয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন নুর মোহাম্মদ। তাঁর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফয়সাল আহমেদ। তিনি আদালতকে জানান, নুর মোহাম্মদের বয়স ১০৪ বছর। তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না এবং নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ সেবন করতে হয়। জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও তিনি স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। তাই আপিলের শর্তে তাঁকে জামিন দেওয়ার আবেদন করা হয়।
শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে নুর মোহাম্মদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, নুর মোহাম্মদ এর আগে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। পরে আদালত থেকে জামিন নিয়ে তিনি পলাতক হন। মামলার রায় ঘোষণার সময়ও তিনি পলাতক ছিলেন।
/এমএইচআর