×
Logo

জাতীয়

গাজী নজরুলকে হঠানোর বুদ্ধি জামায়াতকে ‘বিনা পয়সায়’ দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম

গাজী নজরুলকে হঠানোর বুদ্ধি জামায়াতকে ‘বিনা পয়সায়’ দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সংসদীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার সংসদ সদস্যপদ থাকা না-থাকা নিয়ে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার মধ্যে তীব্র তবে হাস্যরসাত্মক ও প্রাণবন্ত বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিধি অনুযায়ী একজন সংসদ সদস্য হিসেবে কোথাও না কোথাও তাকে কোনো একটি সংসদীয় কমিটিতে স্থান দিতে হয়। স্থায়ী কমিটিগুলোতে বিরোধী দলের তালিকায় তার নাম না থাকায় এবং আরও দুটি কমিটিতে তাদের আপত্তি থাকায় অন্য একটি কমিটিতে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে তার সদস্যপদ শূন্য করার চিঠি দেওয়া হলেও সংবিধান অনুযায়ী কেবল দল থেকে বহিষ্কার করলেই সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয় না, যদি না তিনি নিজে পদত্যাগ করেন। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দলকে ইঙ্গিত করে বলেন, আপনারা যদি সত্যিই তার আসন শূন্য করতে চান, তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের পক্ষে ভোট না দিয়ে তিনি যে বিরত ছিলেন—সেখানে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করা যায়। স্পিকার ও ইসিতে সেই কারণ দেখিয়ে চিঠি দিলে সাংবিধানিকভাবে সহায়তা করা সম্ভব। এই বুদ্ধিটা বিনা পয়সায় দিলাম।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, গ্রামে কথা আছে, কারও ওপর প্রতিশোধ নিতে হলে তাকে মেম্বার ইলেকশনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়। আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাঝেমধ্যেই এমন টিপস দেন, যা আমরা বেশ উপভোগ করি।

তিনি পরিষ্কার করেন, গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে নৈতিক স্খলনের কারণে আগেই বহিষ্কার করা হয়েছে, ফলে দল তার বিরুদ্ধে নতুন করে ফ্লোর ক্রসিংয়ের অভিযোগ তুলতে পারে না। তবে সংসদের মতো প্রেস্টিজিয়াস হাউজে নৈতিক কারণে বহিষ্কৃত একজন ব্যক্তিকে কোনো কমিটিতে না রাখাই দৃষ্টান্তমূলক হতো। তিনি কমিটি পুনর্গঠনের সময় তাকে বাদ দিয়ে নৈতিকতার সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানান।

পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুনরায় ফ্লোর নিয়ে জানান, বিরোধীদলীয় নেতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক কমিটি চূড়ান্ত অনুমোদনের আগেই গাজী নজরুল ইসলামকে উক্ত কমিটি থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। তবে তিনি খোঁচা দিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো বিরোধী দল তার সদস্যপদ বাতিলের চেয়ে কেবল কমিটিতে না রাখার বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিতর্কের সমাপ্তি টেনে বিরোধীদলীয় নেতা সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের নিজস্ব ব্যাখ্যা তুলে ধরে বলেন, অনুচ্ছেদটিতে দলের বিপক্ষে ভোটদানের কথা স্পষ্টভাবে বলা থাকলেও ‘ভোটদানে বিরত থাকা’ সরাসরি প্রযোজ্য কি না তা ব্যাখ্যার দাবি রাখে। তবে নৈতিক আবেদনের প্রেক্ষিতে সংসদীয় কমিটি থেকে ওই সংসদ সদস্যকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও মোবারকবাদ জানান তিনি।

/এএ 

Logo