আগামী ১৫ দিনে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহ সংকটে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের মানুষ কষ্টে আছে বলে স্বীকার করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ পরিস্থিতির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে দেশের চলমান বিদ্যুতের সংকট সম্পর্কিত বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের ভুল নীতির অনিবার্য পরিণতিতেই বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকটও নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্য সংকট শুরু হওয়ায় এর প্রভাব জ্বালানি সরবরাহের ওপর পড়েছে বলে জানান তিনি।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদনক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াট। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। অথচ দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে বর্তমানে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব।
তিনি বলেন, শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস ব্যবহার করে ১২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গেলে শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করতে হবে এবং বাসাবাড়িতেও গ্যাস-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। তাই শিল্প, বিদ্যুৎ ও গৃহস্থালি—তিন খাতেই গ্যাস সরবরাহে ভারসাম্য রাখতে হচ্ছে।
বর্তমান বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ থাকাকেও কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। একই ক্ষমতার মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের আরেকটি ইউনিটও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রয়েছে।
ভারতের আদানি গ্রুপ থেকেও চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না বলে সংসদে জানান প্রতিমন্ত্রী। চুক্তি অনুযায়ী ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দিনে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় প্রায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া আমদানি করা এলএনজি সরবরাহে ব্যবহৃত দুটি ভাসমান টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছিল। গত ২১ জুলাই এফএসআরইউতে ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর তা মেরামতে প্রায় ২২ দিন সময় লাগে। এর প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও।
তবে সংকটের প্রায় ৮৮ শতাংশ সমাধান করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ ইউনিটগুলো চালুর ওপর জোর দেন তিনি।
পাশাপাশি তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় রুফটপ সোলারসহ দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। সরকারের নেওয়া রুফটপ সোলার নীতির ফলে আগামী গ্রীষ্মে মানুষকে চলতি সময়ের মতো দুর্ভোগ পোহাতে হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে সংসদ সদস্যদের উদ্বেগকে স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের প্রতিনিধিদের প্রকৃত তথ্য জানানো এবং এ খাত নিয়ে থাকা ভুল-বোঝাবুঝি দূর করার চেষ্টা করবে সরকার।
/এনএ