×
Logo

জাতীয়

রফতানি বহুমুখীকরণে মেধাস্বত্ব সুরক্ষা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: শিল্পমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১১ পিএম

রফতানি বহুমুখীকরণে মেধাস্বত্ব সুরক্ষা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: শিল্পমন্ত্রী

দেশের রফতানি বহুমুখীকরণ এবং বাংলাদেশি উদ্ভাবন, ঐতিহ্যবাহী পণ্য ও সৃজনশীল শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে মেধাস্বত্ব (আইপি) সুরক্ষা ও ব্যবস্থাপনা জোরদারসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সিলেট-৫ আসনের খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, মেধাস্বত্ব সুরক্ষার আইনি কাঠামো আধুনিকায়নে বাংলাদেশ পেটেন্ট আইন, ২০২৩ এবং শিল্প নকশা আইন, ২০২৩ প্রণয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯ ও কপিরাইট আইন, ২০২৩-এর আওতায় উদ্ভাবন, ব্র্যান্ড ও সৃজনশীল সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি ঐতিহ্যবাহী ও অঞ্চলভিত্তিক পণ্যের স্বতন্ত্র পরিচয় প্রতিষ্ঠায় জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন বা ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধন ও সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। জিআই লোগোর ব্যবহার এসব পণ্যের ব্র্যান্ডিং, বিপণন ও মূল্য সংযোজনে সহায়তা করছে।

পেটেন্ট, ট্রেডমার্ক ও শিল্প নকশার নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করতে পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদফতরের (ডিপিডিটি) কার্যক্রম ধীরে ধীরে ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশনের আওতায় আনা হচ্ছে। একইসঙ্গে দেশীয় উদ্ভাবক, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প উদ্যোক্তাদের মেধাস্বত্ব নিবন্ধনে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, ওষুধ, কৃষিপ্রক্রিয়াজাত খাদ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, প্লাস্টিক, হস্তশিল্প, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং সৃজনশীল শিল্পসহ উদীয়মান রপ্তানি খাতে মেধাস্বত্ব সুরক্ষা ও ব্র্যান্ডিংয়ে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। রফতানি সক্ষমতা বাড়াতে শিল্প ক্লাস্টার গড়ে তোলা, প্রযুক্তির উন্নয়ন ও মান নিয়ন্ত্রণেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের রফতানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে স্থানীয় গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও উৎপাদন সক্ষমতা জোরদারে ‘ট্রিপস’ চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নীতিগত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান শিল্পমন্ত্রী।

তিনি বলেন, মেধাস্বত্ব সুরক্ষার ফলে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পণ্যের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও ব্র্যান্ড পরিচিতি বাড়ছে। জিআই নিবন্ধিত পণ্যের উৎপাদক ও উদ্যোক্তারা বাড়তি বাজারমূল্য ও নতুন রফতানি সুযোগ পাচ্ছেন। এতে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, চামড়া, প্লাস্টিক ও কৃষিপ্রক্রিয়াজাত খাদ্যসহ বিভিন্ন খাতে রফতানি সম্প্রসারণে মেধাস্বত্ব সুরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ ব্যবস্থা বিদেশি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও উদ্ভাবননির্ভর শিল্পায়নের সম্ভাবনাও বাড়াচ্ছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকার মেধাস্বত্ব সুরক্ষাকে রফতানি বহুমুখীকরণের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। নতুন রফতানি খাত গড়ে তুলতে আইন সংস্কার, জিআই নিবন্ধন, পেটেন্ট ও ট্রেডমার্ক সুরক্ষা, ব্র্যান্ড উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনে সহায়তার মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

/এনএ 

Logo