×
Logo

জাতীয়

মালয়েশিয়া থেকে মানবপাচারের শিকার ২ বাংলাদেশি উদ্ধার

মো. মনিরুজ্জামান, মালয়েশিয়া

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম

মালয়েশিয়া থেকে মানবপাচারের শিকার ২ বাংলাদেশি উদ্ধার

মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের শিকার ২ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্দিশিবিরে আটকে রেখে নির্যাতন ও মুক্তিপণের দাবির পর তাদের পেনাংয়ের একটি ক্লিনিকের সামনে ফেলে যায় পাচারকারী চক্র। 

উদ্ধার হওয়া দুজন হলেন, নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার অটোচালক জনি এবং চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার মো. মোশাররফ হোসেন।

পাচাররের শিকার নড়াইলের লরাগাতি উপজেলার অটোচালক জনি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাজের সন্ধ্যানে ঢাকায় এসে বিমানবন্দর এলাকায় এক দালালের সাথে পরিচয় হয়। ভালো কাজের প্রলোভনে নিয়ে যাওয়া হয় কক্সবাজারের টেকনাফে। এরপর মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশে রাতের আধাঁরে জোর করে নৌকায় তোলা হয়। 

১০ দিনের যাত্রায় উত্তাল সাগর পাড়ি দিয়ে পৌঁছায় থাইল্যান্ড। সেখানে দুর্গম এলাকার বন্দিশালায় অমানবিক নির্যাতনে দিন কাটে। 

প্রায় ৪ মাস বন্দিশিবিরে আটক রেখে নির্যাতন চালানোর ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে মুক্তিপন দাবি দাবি করে পাচারকারী চক্র। দিনমজুর বাবা মো. ফুরকান টাকা দিতে না পারায় জনির ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

এরপর সেখান থেকে আবারও অবৈধ উপায়ে মালয়েশিয়ায় নিয়ে ২ মাস আটকে রাখা হয়। একই ভাবে পাচারের শিকার হয় মালয়েশিয়া যান চট্টগ্রামের মিরেরসরাই উপজেলার মো মোশাররফ হোসেন। 

মালয়েশিয়ার বন্দিশিবির থেকে টাকা দিয়ে একে একে সবাই মুক্তি পেলেও টাকা দিতে না পারায় জনি ও মো মোশাররফ হোসেনের  মুক্তি মেলেনি। পরে আগস্টের ২৮ তারিখ সন্ধ্যায় মালয়েশিয়ার পেনাং রাজ্যের রিফিউজি ক্লিনিকের সামনে পাচারকারী চক্র তাদের ফেলে রেখে যায়। 

ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ হাইকমিশনের সাথে যোগাযোগ করলে হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর দূতাবাসের অথরাইজেশন লেটার দিয়ে স্থানীয় বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেনের তত্ববোধানে রাখা হয়। 

আইনি প্রক্রিয়া শেষে দূতাবাসের সার্বিক সহায়তায় চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে দেশে ফিরবেন তারা।  

বাংলাদেশ হাই কমিশনের লেবার মিনিস্টার মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, দেশের আইন মেনে বিদেশে গেলে কেউ কোনো সমস্যায় পড়বে না ,সরকারের আইনকে তোয়াক্কা না করে যারাই বিদেশে যাচ্ছে তারাই বিভিন্ন সমস্যায় পড়ছে। 

থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়া সীমান্ত ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রগুলো দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। দুর্গম বনাঞ্চল ও পাহাড়ি পথ ব্যবহার করে অবৈধভাবে বাংলাদেশিদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করানো হয়।

সচেতনতার অভাবে গ্রামীণ অঞ্চলের অনেক মানুষ সঠিক তথ্য না জেনে দালালদের প্রলোভনে পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নেন। অন্যদিকে ভিটেমাটি বিক্রি করে বা চড়া সুদে ঋণ নিয়ে টাকা দেওয়ার পর স্বজনের খোঁজ না পেয়ে পরিবারগুলো চরম অর্থনৈতিক ও মানসিক সংকটে দিন কাটায়। 

অন্যদিকে সীমান্তের দুই পাশের প্রভাবশালী ও স্থানীয় পাচারকারী সিন্ডিকেটগুলো আইনের ফাঁক গলে বহাল তবিয়তে তাদের অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এই সংকট নিরসনে প্রয়োজন কঠোর সীমান্ত পাহারা, দালাল চক্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ এবং তৃণমূল পর্যায়ে সঠিক অভিবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন।

/এএন



Logo