×
Logo

জাতীয়

উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিতে দেশের ৪৩% তরুণ: গবেষণা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৩ এএম

উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিতে দেশের ৪৩% তরুণ: গবেষণা

মাত্র ২৫ বছর বয়সী মসজিদে মুয়াজ্জিন রিফাত উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন। ফাইল ছবি।

দেশে চল্লিশ বছর বয়সে পৌঁছানোর আগেই তরুণদের মধ্যে প্রকট হচ্ছে উচ্চ রক্তচাপ। অনিয়মিত জীবনযাপন, রাত জাগা, অস্বাস্থ্যকর খাবার, স্থূলতা, ধূমপান ও দীর্ঘ সময় বসে থাকার মতো অভ্যাস বাড়িয়ে দিচ্ছে এই নীরব ঘাতকের ঝুঁকি। গবেষণার তথ্য বলছে, দেশের ৪৩ শতাংশ তরুণের রক্তচাপ স্বাভাবিক সীমার চেয়ে বেশি।

মাত্র ২৫ বছর বয়স রিফাতের। একটি মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে কাজ করেন তিনি। কাজের ধরন ও অনিয়মিত ঘুমের কারণে এই বয়সেই উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন রিফাত।

একই চিত্র বেসরকারি চাকরিজীবী সোনামিয়ার ক্ষেত্রেও। বয়স মাত্র ৩০। চার বছর আগেই তার উচ্চ রক্তচাপ শনাক্ত হয়। তবে কাজের ব্যস্ততা ও নানা চাপের কারণে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে তেমন গুরুত্ব দেননি তিনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিযোগিতামূলক কর্মজীবনের চাপে তরুণদের জীবনযাপনেও এসেছে বড় পরিবর্তন। অনিয়মিত খাবারের অভ্যাস, অতিরিক্ত তেল ও লবণ খাওয়া, স্থূলতা, ধূমপান, দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা এবং শারীরিক পরিশ্রমের ঘাটতি উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় কাটানো এবং গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকার অভ্যাস।

তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, নিজেদের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন নন অধিকাংশ তরুণ। নিয়মিত মাথাব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, বুক ধড়ফড় করা কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলেও অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেন না। ফলে শুরুতেই শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও অবহেলায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে।


বিভিন্ন পরিসংখ্যানেও দেশে কম বয়সে উচ্চ রক্তচাপের প্রবণতা বাড়ার চিত্র উঠে এসেছে। জাতীয় জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় এক-চতুর্থাংশ উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। আর গবেষণায় দেখা গেছে, ৪৩ শতাংশ তরুণের রক্তচাপ স্বাভাবিক সীমার চেয়ে বেশি। তাদের মধ্যে খুব অল্পসংখ্যকই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছেন।


ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের রোগতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ১০০ জন তরুণের মধ্যে মাত্র ১৬ জন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছেন। অর্থাৎ, বাকি ৮৪ জনের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, উচ্চ রক্তচাপকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ থাকলে স্ট্রোক, হার্ট ফেইলর, কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া এবং রক্তনালীর নানা জটিলতার ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে গুরুতর অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ে।

হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সায়েম মোহাম্মদ বলেন, কারও উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তার স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। একই সঙ্গে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ রক্তচাপকে অনেক সময় ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। কারণ, রক্তচাপ বেড়ে গেলেও সবসময় স্পষ্ট কোনো উপসর্গ দেখা দেয় না। ফলে সুস্থ বোধ করলেও শরীরে উচ্চ রক্তচাপের ক্ষতিকর প্রভাব চলতে পারে।

তাই বয়স ২০ বছর পার হওয়ার পর থেকেই নিয়মিত রক্তচাপ মাপার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, অতিরিক্ত লবণ ও তেল এড়িয়ে চলা, ধূমপান পরিহার, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত ঘুমের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ তাদের।

তরুণ বয়সেই সচেতনতা ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাড়ানো গেলে উচ্চ রক্তচাপ শনাক্ত করার পাশাপাশি এর দীর্ঘমেয়াদি জটিলতাও অনেকটাই এড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

/এআই 

Logo