×
Logo

জাতীয়

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে বলে হাসনাত আব্দুল্লাহর দুঃখ প্রকাশ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৭ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে বলে হাসনাত আব্দুল্লাহর দুঃখ প্রকাশ

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে বলে দুঃখপ্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। 

শনিবার (২৯ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন। 

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা, সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতোই। এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় আসলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। সেখানকার আলেম-ওলামাদের ওপর দিয়েছেন। তাদের ভাবমূর্তি বিশ্বের সামনে ক্ষুণ্ন করেছেন।

তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের কনসার্ট বন্ধ হওয়ার খবর মিডিয়ায় যেভাবে এসেছিল, বাস্তব চিত্র তা থেকে আলাদা ছিল। গভীর রাতে উচ্চ শব্দের কারণে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে। তাই শিক্ষার্থীরা সাউন্ড কমাতে বলেন। এ নিয়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের কথা-কাটাকাটি থেকে পরবর্তী ঘটনা ঘটে। পুলিশের লাঠিপেটায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

তিনি আরও বলেন, মিডিয়া ভিন্নভাবে উপস্থাপন করলেও ঘটনাপ্রবাহ থেকে এটা স্পষ্ট যে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করে দেয়নি। তারা শুধু শব্দ কমাতে বলেছিলেন।

এর মানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ নয়, যেমনটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ সম্পর্কে ভুল বার্তা দিয়েছিলেন এবং তাদের ছোট করেছিলেন।

অন্যদিকে নৌকাবাইচের বিষয়টিতে নিজের তথ্যগত ত্রুটির কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, সিলেটের জায়গায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া বলে ফেলেছিলেন। এ ত্রুটির কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় তিনি বিব্রত এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করছেন।

তিনি আরও বলেন, মূল ঘটনা কী ছিল এবং মিডিয়া কীভাবে বিষয়টি ফ্রেমিং করেছে, তা নিয়ে সংসদে কথা বলা তার উচিত ছিল। কিন্তু সম্পূরক প্রশ্নে সময় সীমাবদ্ধতার কারণে বিস্তারিত বলার সুযোগ ছিল না।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আমি এবং আমার দল আমরা জুলাইয়ের আদর্শকে ধারণ করি এবং সকল নীতি, সিদ্ধান্ত সেই আদর্শের ওপর নির্ভর করেই নিতে চাই।

তিনি বলেন, জুলাই একটি সর্বজনীন সমাজের স্বপ্ন দেখায়, যেখানে সকল মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা হবে এবং কেউ কারও মত বা দৃষ্টিভঙ্গি অন্যের ওপর চাপিয়ে দেবে না।

তিনি আরও বলেন, এই আদর্শের প্রতি আমি কমিটেড ছিলাম, আছি, থাকব। যদি কোনো গ্রুপ বা ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কারও ওপর জোর খাটায় বা কাউকে নিজের মতামত চাপিয়ে দিতে বাধ্য করে, তাহলে সরকারের দায়িত্ব সেটাকে প্রতিহত করা এবং সকল মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা।

সরকার যখন সেই দায়িত্ব পালনে দ্বিধা করে বা অস্বীকৃতি জানায়, তখন দেশের আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা ভেঙে পড়ে এবং সরকারের ব্যর্থতাই প্রমাণিত হয়। সংসদে এই কথাই বলতে চেয়েছিলেন বলে জানান তিনি। 

পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, এই বাংলাদেশ সবার। সকল ধর্মের, মতের মিলনস্থল বাংলাদেশ। যার যা পছন্দ হবে, সে সেখানে যাবে, অংশ নেবে, যার যেটা পছন্দ হবে না, সে সেটায় যাবে না।

কেউ যেন আরেকজনের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়, এমন কিছু করতে না পারে সে বিষয় সরকার নিশ্চিত করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

/এএন


Logo