'পরীক্ষিত' মির্জা ফখরুলই বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৫ পিএম
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড়ে বিএনপি তাদের 'পরীক্ষিত' মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার বিষয়ক মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বেছে নিয়েছে। বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সিদ্ধান্তে কার্যত নিশ্চিত হয়ে গেছে বঙ্গভবনের পরবর্তী বাসিন্দা হতে যাচ্ছেন ঠাকুরগাঁওয়ের মির্জা বাড়ির এ সন্তান।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে এই খবর জাতিকে জানান মির্জা ফখরুলেরই দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা রুহুল কবির রিজভী। যার কি না দলে মির্জা ফখরুলেরই পদে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার কথা।
এই ঘোষণার সাথে ব্রিফিংয়ে রুহুল কবির রিজভী জানিয়ে দেন, মির্জা ফখরুল দলের মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্যের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
একইসাথে মন্ত্রিসভা থেকেও আজ তার পদত্যাগ করার কথা জানা যাচ্ছে। সেই সাথে জাতীয় সংসদ থেকেও। তিনি রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড়ে নামায় এই তিন পদই শুন্য হয়ে যাচ্ছে।
রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার লড়াইয়ে মির্জা ফখরুল আনুষ্ঠানিকভাবে লড়বেন তার এক সময়ের রাজনৈতিক সহকর্মী অলি আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে। বিএনপি ছেড়ে এলডিপি গঠন করা অলি আহমদ এখন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সঙ্গী। এই জোটই তাকে প্রার্থী করেছে। আজ বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা নির্বাচন কমিশনে তার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পরিবর্তে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে নির্বাচন করার সুযোগ তৈরি করতে তারা প্রার্থী দিয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্রও জমা দেওয়ার কথা।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, আজ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর আগামী ১৬ আগস্ট মনোনয়পত্র বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ভোট হবে ২০ আগস্ট।
এবার একাধিক প্রার্থী থাকায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ভোটাভুটির প্রয়োজন হবে। সংসদ সদস্যরা জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে এই ভোটাভুটিতে অংশ নেবেন।
যদিও বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাদের প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা। তাই তো আগেই বলেছি, বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর নাম ঘোষণার সঙ্গেই কার্যত নিশ্চিত হয়ে গেছে, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হয়ে মির্জা ফখরুলই যাচ্ছেন বঙ্গভবনে।
তবে, আনমনে হয়তো ঠাকুরগাঁওয়ের এ সন্তান কিছুটা ভাবছে, সিদ্ধান্তটা কি ঠিক হয়েছে? এখন আর নিজের এলাকায় গিয়েই পাড়া-পড়শির খোঁজ নেওয়ার সুযোগ অনেকটা বন্ধ হয়ে যাবে। কিংবা বাসায় যখন-তখন কাউকে ডেকে কবিতা পাঠের আসর। সবচেয়ে বড্ড মিস করবে, বিএনপিকে... দলটির দীর্ঘ দুর্দিনে অনেকটা 'একাই' শক্ত হাতে পাড়িয়ে দিয়েছেন উত্তাল রাজপথ। দলকে কতটা আগলে রাখতে পেরেছেন, তা তো দৃশ্যমান। আর নেতাকর্মীরাও তাকে সম্বোধন করতে শুরু করে 'বাংলাদেশের মহাসচিব'। সেই দলের মহাসচিব পদ ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি কিঞ্চিৎ হলেও মির্জা ফখরুলকে ভাবতে বাধ্য করবে।
/এমএন