সার্ভিস রুলস কার্যকর না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি মেট্রোরেল কর্মীদের
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) অনুষ্ঠিতব্য পরিচালনা পর্ষদের সভায় নিজস্ব ‘চাকরি-বিধিমালা’ (সার্ভিস রুলস) কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেওয়া না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
প্রতিষ্ঠার এক যুগ পার হলেও স্বতন্ত্র চাকরি-বিধিমালা ও সাংগঠনিক কাঠামো কার্যকর না হওয়ায় এবং দফায় দফায় প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল থেকে ডিএমটিসিএল কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ৯ শতাধিক স্থায়ী কর্মী।
২০১৩ সালে গঠিত এই রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিতে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে বাণিজ্যিকভাবে মেট্রোরেল চলাচল শুরু হয়। এরপর থেকে দিন-রাত সেবা দিয়ে আসলেও নির্দিষ্ট সার্ভিস রুলস না থাকায় তাদের প্রশাসনিক ও পেশাগত নিরাপত্তা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। চাকরির শৃঙ্খলা, পদোন্নতি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধায় অস্বচ্ছতা ও বৈষম্য বিরাজ করায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
কর্মচারীদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর উপদেষ্টা ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ চাকরি-বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
নির্ধারিত সময়ে তা না হলেও পরবর্তীতে কর্মচারীদের আন্দোলনের মুখে ৭৩তম বোর্ড সভায় সার্ভিস রুল অনুমোদন দেওয়া হয়। কোম্পানি আইনে পরিচালিত এই স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বোর্ডেই সার্ভিস রুলস চূড়ান্ত করার এখতিয়ার রয়েছে। অথচ একটি ‘বিশেষ গোষ্ঠীকে অন্যায় সুবিধা দেওয়া ও কালক্ষেপণ করার উদ্দেশ্যে’ তা মতামতের জন্য অর্থ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
সার্ভিস রুলস বোর্ডে অনুমোদিত হওয়ার পর প্রায় সাত মাস পার হয়ে গেছে।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বরাবর একাধিকবার স্মারকলিপি দেওয়া হলেও আশ্বাস ছাড়া কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
অবস্থান কর্মসূচিতে থাকা কর্মচারীরা বলেন, আমরা এতদিন ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষের ক্রমাগত উদাসীনতা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গে আমাদের ধৈর্যের সীমা পার হয়ে গেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে কর্তৃপক্ষকে সার্ভিস রুলস ও অর্গানোগ্রাম কার্যকরের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। বাধ্য হয়ে আমরা অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছি।
বিজ্ঞপ্তিতে কর্মচারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য পর্ষদ সভায় যদি চাকরি-বিধিমালা কার্যকরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসে, তবে তারা কর্মবিরতিসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন। এর ফলে মেট্রোরেল চলাচলে কোনো ব্যঘাত ঘটলে বা সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি তৈরি হলে তার সমস্ত দায়ভার ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।
মেট্রোরেলের নিরবচ্ছিন্ন সেবা বজায় রাখা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে অবিলম্বে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
/এসআর