×
Logo

জাতীয়

বাবা-মায়ের সুরক্ষায় সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে যেসব পরির্বতনের কথা বললেন আইনমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০১:২৭ পিএম

বাবা-মায়ের সুরক্ষায় সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে যেসব পরির্বতনের কথা বললেন আইনমন্ত্রী

ছবি: এআই জেনারেটেড

সম্পত্তি হস্তান্তর আইন অনুযায়ী, হস্তান্তর বলতে বোঝায়, একজন জীবিত ব্যক্তি তার কোনো সম্পত্তি স্বেচ্ছায় অন্য একজন বা একাধিক জীবিত ব্যক্তির নামে দিয়ে দেন। চাইলে তিনি নিজের সঙ্গে অন্য কাউকেও সেই সম্পত্তির অংশীদার করতে পারেন। এই সম্পত্তি এখনই বা ভবিষ্যতে দেওয়ার শর্তেও হস্তান্তর করা যেতে পারে।

আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে সচিবালয়ে আইনগত সহায়তা প্রদান বিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

আইনমন্ত্রী বলেন, মুসলিম আইনে হেবা এবং ওসিয়তনামা, আর হিন্দু আইনে উইলের বিধান রয়েছে। কোনো বাবা-মা যদি তাদের সন্তানদের নামে হেবা করে দেন, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে সম্পত্তির মালিকানা সন্তানদের কাছে চলে যায়। এতে বাবা-মা নিজেদের সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সন্তানদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। পরে সন্তানরা যদি তাদের দেখাশোনা না করলে বাবা-মা অসহায় হয়ে পড়েন এবং তাদের আর কিছুই করার থাকে না।

সেজন্য হেবার বিকল্প হিসেবে ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্টের ‘গিফট’ সংক্রান্ত বিধানকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের আলোকে বিদ্যমান বিধানটি আরও সম্প্রসারণের চিন্তা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনে গিফটের ক্ষেত্রে দাতার জন্য ‘ইউসুফ্রাক্ট রাইট’ বা সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহার করার অধিকার সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হবে।

কথা বলছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান

তিনি আরও বলেন, বাবা-মা সন্তানদের নামে সম্পত্তি গিফট করলেও জীবদ্দশায় তারা সেই সম্পত্তি ভোগ ও দখলে রাখতে পারবেন। তবে এ সময়ে তারা এককভাবে সম্পত্তি বিক্রি করতে পারবেন না; বিক্রির জন্য সন্তানের সম্মতি প্রয়োজন হবে। একইভাবে সন্তানও বাবা-মায়ের সম্মতি ছাড়া সম্পত্তি বিক্রি করতে পারবে না।

তবে যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে সম্পত্তি বিক্রি ছাড়া বাবা-মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা সম্ভব নয়, কিন্তু সন্তান বিক্রিতে সম্মতি না দেয়, তাহলে জেলা জজের কাছে আবেদন করা যাবে। বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা জেলা জজকে দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হচ্ছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের বিধান চালু হলে সম্পত্তি-সংক্রান্ত বহু দেওয়ানি বিরোধ ও মামলার সংখ্যা কমবে এবং পারিবারিক নানা সমস্যারও সমাধান হবে। নতুন নতুন ধারণা বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

/এসআইএন



Logo