×
Logo

জাতীয়

প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী নেওয়ার দালাল চক্রের তৎপরতা বন্ধ করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম

প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী নেওয়ার দালাল চক্রের তৎপরতা বন্ধ করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ফাইল ছবি

সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে নেওয়া দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে রাজধানীতে পার্টিসিপেন্ট রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের যৌথ আয়োজনে এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপনা করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. এনামুল হক।

গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জরিপভুক্ত সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের বাজেট বাস্তবায়নের হার ছিল ৮৫ শতাংশ। তবে মাধ্যমিক পর্যায়ে এ হার সবচেয়ে কম, ৭৮ শতাংশ। অর্থবছর শেষে ৯৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দের অর্থ অব্যয়িত ছিল। গবেষকদের মতে, এর প্রধান কারণ আর্থিক অনিয়মের চেয়ে বাজেট ব্যবস্থাপনার কাঠামোগত দুর্বলতা ও প্রশাসনিক জটিলতা। সাধারণ সরঞ্জাম খাতে বরাদ্দের মাত্র ২৭ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।

টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অবাস্তব যোগ্যতার শর্ত দিয়ে প্রতিযোগিতা সীমিত করে পছন্দের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্য খাতে অপচয়ের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, আওয়ামী লীগ সরকার ১১ কোটি টাকার রেডিওথেরাপি মেশিন ১৮ কোটি টাকায় কিনলেও সেগুলো স্থাপনের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত ছিল না। একইভাবে প্রয়োজনীয় জনবল ছাড়াই বিভিন্ন হাসপাতালের জন্য এক্স-রে ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে।

সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের বেসরকারি ক্লিনিকে রোগী পাঠানো, কমিশনভিত্তিক টেস্ট বাণিজ্য এবং সরকারি দায়িত্ব পালনে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারির ঘোষণা দেন তিনি।

মন্ত্রী আরও জানান, ডায়ালাইসিস সেবায় একচেটিয়া আধিপত্যের অবসান ঘটাতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের চুক্তি নবায়ন করা হবে না। সরকার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ডায়ালাইসিস মেশিন কিনবে। পাশাপাশি প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যা এবং প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস কেন্দ্র চালু করা হবে।

প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে আগামী তিন মাসের মধ্যে ১০টি উপজেলা ও ৯০টি ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর্মীদের এআই-সমৃদ্ধ কিট, স্মার্টফোন ও সাইকেল দেওয়া হবে। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডায়াবেটিস, রক্তচাপসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন।

এ ছাড়া অডিটের নামে ঘুষ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন ঠেকাতে দেশজুড়ে বেসরকারি ক্লিনিকে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

/এনএ 

Logo