ঢাকায় সার্জিও গোরের সফর: চীন-তুরস্কের সাথে বাণিজ্য চুক্তি যাচাই করতে পারেন
মাহফুজ মিশু
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ১১:২৩ এএম
নতুন সরকারের কূটনীতি বুঝতে আগামী বৃহস্পতিবার ঢাকা আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর। এ সময় চীনের সাথে সম্পর্কের গভীরতা যাচাই করতে পারেন প্রভাবশালী এই মার্কিন নীতিনির্ধারক। পাশাপাশি ওয়াশিংটনের সাথে সই হওয়া বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নে ঢাকার মনোভাবও খতিয়ে দেখবেন তিনি।
ম্যানিলায় সদ্য শেষ হওয়া আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামেও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ এই অঞ্চলের শীর্ষ নেতাদের সাথে দেখা হয়েছে তার। সেখান থেকে দিল্লি হয়ে ঢাকা আসছেন তিনি। সূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবারই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সাথে বৈঠক করবেন সার্জিও গোর। একইদিন সাক্ষাৎ হতে পারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথেও।
এদিকে, গত ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পর মালয়েশিয়া হয়ে চীন সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চীনের পাশাপাশি তুরস্কের সাথেও বাণিজ্যিক ঘনিষ্ঠতা দৃশ্যমান। এতে যুক্তরাষ্ট্রের অস্বস্তি থাকা স্বাভাবিক, সে কথা বলছিলেন ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ূন কবির।
তিনি বলেছেন, তাদের (যুক্তরাষ্ট্র) প্রায়োরিটি এই অঞ্চলে এখন পরিষ্কার, চীনকে ঠেকাও। সেই ক্ষেত্রে আমাদের প্রধানমন্ত্রী চীন থেকে ঘুরে এসেছেন; চীনাদের কাছ থেকে একটা বড় প্রকল্পের প্রস্তাব আছে, সেগুলো নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান কী এটা সম্পর্কে তারা জানতে চাইবেন। তারা বাংলাদেশকে হয়তো মন করিয়েও দিতে পারে যে এআরটির আওতায় বাংলাদেশ কিন্তু একটা আবদ্ধতায় আছে, কারণ নন-মার্কেট ইকোনমির সাথে ইন্টারেকশনে গেলে তার কনসিকুয়েন্স হতে পারে।
অন্তর্বর্তী আমলে সই হওয়া বাণিজ্য চুক্তির ফলোআপের পাশাপাশি বাংলাদেশকে কিছু করতে বাধ্য করতে চাইলেও সম্ভব নয়, এমন ধারণা অবশ্য বেইজিংয়ে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদের।
তিনি বললেন, যুক্তরাষ্ট্র আমাদেরকে কী দিতে পারে, আমরা কী নিতে পারি সেগুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনা করা... যে চুক্তিটা তাদের সাথে হয়েছে চুক্তিটা সমতাভিত্তিক নয়, অসম চুক্তি; সে চুক্তি মানতে সরকার বাধ্য থাকবে না। এটা বুঝবার মতো ক্ষমতা তাদের আছে। সুতরাং ওইভাবে কিছু করবে না, তারা আমাদের মাথায় হাত বুলিয়ে যেটুকু আদায় করতে পারে সেটা করবে।
বাংলাদেশ চাইলেও যুক্তরাষ্ট্র বা চীন, কোনও পক্ষকে বাদ দিতে পারে না, এই বাস্তবতা ট্রাম্প প্রশাসনেরও জানা। এ কথা উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ওবায়দুল হক বলছিলেন, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়, এমন কিছু ঢাকা করবে না, এই আশ্বাস পেতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন।
তার মতে, চীন বা মালয়েশিয়া বা তুরস্কের সাথে যে সম্পর্ক এগুলো খুবই স্বাভাবিক এবং আমেরিকাও সেটি বুঝে। রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকার জন্য একটা পথ আমাদের তৈরি করতে হবেই। সেই পথটা যেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সাথে সাংর্ঘষিক না হয়, সেটিকে মাথায় রেখে করার চেষ্টা করবে ঢাকা। আর এইসব দেশের সাথে ঢাকার সর্ম্পক নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে যে কিছুটা অস্বস্তি থাকতে পারে, তা নিয়েও দ্বিমত পোষণ করছেন না তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি কীভাবে বাংলাদেশের কাছে উপস্থাপন করে এবং কীভাবে সামাল দেয় সেটি হচ্ছে বিষয়।
বিএনপি সরকার গঠনের পর সার্জিও গোরের আগেও ঢাকা সফর করেছেন ট্রাম্প প্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্তা। গত মার্চে দক্ষিণ ও মধ্য-এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর এবং দুই মাস আগে ঢাকা ঘুরে গেছেন সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ।
/এমএন