টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক
বিভ্রান্ত না হয়ে বৈজ্ঞানিক যাচাইয়ের ওপর আস্থার আহ্বান বিএসটিআই'র
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ১১:১৮ পিএম
টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে সাম্প্রতিক উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে জনমনে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। সংস্থাটি জানিয়েছে, বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ ও স্বাধীন পরীক্ষাগারে পূর্ণাঙ্গ যাচাইয়ের মাধ্যমেই তারা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিএসটিআইয়ের সম্পাদক মঈনুদ্দীন মিয়ার স্বাক্ষর করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই অবস্থান ব্যাখ্যা করা হয়।
সম্প্রতি এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন নামের একটি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে দেশের বাজারে পাওয়া ৩৪টি টুথপেস্ট নমুনার মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার কথা বলা হলে জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় বিএসটিআই অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালে কসমেটিকস ও টুথপেস্টে ইচ্ছাকৃত মাইক্রোপ্লাস্টিক নিষিদ্ধ করে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত উৎপাদনকারীদের সময় বেঁধে দিয়েছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক একটি উদীয়মান স্বাস্থ্য উদ্বেগ হলেও এর সুনির্দিষ্ট প্রভাব নিয়ে এখনো ব্যাপক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমানে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ আইএসও ও এসটিএম-এর মতো আন্তর্জাতিক মান সংস্থাতেও টুথপেস্টে অনিচ্ছাকৃতভাবে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য কোনো নির্দিষ্ট গ্রহণযোগ্য সীমা বা একক পরীক্ষা পদ্ধতি নির্ধারিত নেই।
বিএসটিআই জানায়, বাংলাদেশে কার্যকর মানদণ্ড অনুযায়ী টুথপেস্ট উৎপাদনে অনুমোদনপ্রাপ্ত ৮১টি উপকরণের তালিকায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের কোনো উল্লেখ নেই। সংস্থাটির লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়ায় নিয়মিত কারখানা পরিদর্শন ও মান যাচাই করা হয় বলে কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ইচ্ছাকৃতভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক মেশানোর সুযোগ নেই। কাঁচামালের উৎস ও অনিচ্ছাকৃত মিশ্রণ যাচাই করতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টেস্ট পদ্ধতির এবং উৎপাদকদের কাছ থেকে উপাদানের তথ্য চাওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, বিএসটিআই নিজ উদ্যোগে বাজার ও কারখানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে স্বীকৃত স্বাধীন পরীক্ষাগারে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা নিয়েছে। পরীক্ষায় কোনো অনিয়ম বা অনুমোদনহীন উপাদানের প্রমাণ মিললে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক তথ্য ছাড়া ঢালাওভাবে কোনো ব্র্যান্ডকে অনিরাপদ ঘোষণা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশেষজ্ঞ, দন্ত চিকিৎসক, পরিবেশ অধিদফতর ও ভোক্তা প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জাতীয় মান হালনাগাদের উদ্যোগ নিয়েছে বিএসটিআই। জনগণকে গুজবে কান না দিয়ে সঠিকভাবে মুখের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং টুথপেস্ট গিলে না ফেলার অনুরোধ জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
/এএ