এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটিতে কমেছে গ্যাস সরবরাহ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১:২৭ এএম
কক্সবাজারের মহেশখালীর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় রাজধানীসহ তিতাস গ্যাসের আওতাধীন এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বাসাবাড়ির পাশাপাশি শিল্পকারখানা এবং সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা।
রোববার (২৬ জুলাই) সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না সিএনজিচালিত চালকরা। তাদের অভিযোগ, গ্যাস সংকটের কারণে কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে এবং আয়-রোজগারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
একই চিত্র রাজধানীর বিভিন্ন বাসাবাড়িতেও। গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক জায়গায় চুলা জ্বলছে না বা খুব কম চাপ থাকায় রান্না করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, সরবরাহ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম থাকায় চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে রোববার (২৬ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড জানিয়েছে, কারিগরি ত্রুটির কারণে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালগুলো থেকে রিগ্যাসিফায়েড এলএনজি (আরএলএনজি) সরবরাহ প্রায় ৪৫০ এমএমসিএফডি কমে গেছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তিতাস গ্যাসের আওতাধীন সব শ্রেণির গ্রাহক গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপের সম্মুখীন হবেন।
এছাড়াও সাময়িক এ অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখও প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
অন্যদিকে, পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার অগ্নিকাণ্ডের পর মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল টার্মিনালের মেরামতকাজ শুরু করেছে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন সরবরাহ করা মোট গ্যাসের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আসে এলএনজি থেকে। বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট, তবে গত বছর থেকে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে এলএনজি সরবরাহে যেকোনো বিঘ্ন জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে।
/এসআইএন