×
Logo

জাতীয়

কে হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি, আলোচনায় কারা?

সাইফুদ্দিন রবিন

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম

কে হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি, আলোচনায় কারা?

মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন জাতীয় সংসদের বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। এরপর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে জোর আলোচনা। বিভিন্ন মহলে নানা নাম আলোচনায় থাকলেও, বিএনপি দলীয় নেতৃত্ব থেকেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে চায়।

তবে দলটির নীতি-নির্ধারণী ফোরামে আলোচনা শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আর দলের শীর্ষ নেতারা বলছেন, দল থেকে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব, নৈতিকতা-সম্পন্ন ও বিশ্বস্ত কাউকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা উচিত। 

এখনও সংবিধান সংশোধন না হওয়ায় বিদ্যমান পুরোনো পদ্ধতিতেই নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি। অর্থাৎ ৩৫০ জন সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন। এমনকি এমপিরা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দিলে বাতিল হবে সংসদ সদস্যপদ। সেজন্য সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিএনপি মনোনীত প্রার্থীই হতে যাচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। যে রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ও সময়কাল কৌশলগত নানা দিক থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

রাষ্ট্রপতির আলোচনায় যেসব নাম

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির পক্ষ থেকে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দায়িত্ব গ্রহণের জোর আলোচনা আছে। এছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচনায় রয়েছে।

এর বাইরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নামও সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় এসেছে। তবে বিএনপির নেতাদের একটি বড় অংশের মত, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে কাউকেই বেছে নেওয়া উচিত।

দলের বিশ্বস্ত কাউকে নির্বাচনের পক্ষে শীর্ষ নেতারা

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী যা হওয়ার, তাই হবে। নতুন রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। স্বাভাবিকভাবেই বিএনপি যাকে মনোনয়ন দেবে, তিনিই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

দলটির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে। সেখানে বিএনপি যেহেতু সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল, তাই স্বাভাবিকভাবেই দলটির মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি এমন একজন হওয়া উচিত, যিনি দলের প্রতি বিশ্বস্ত, পরীক্ষিত এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের অনুসারী। তার ভাষ্যমতে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে পক্ষ-বিপক্ষ সবার মধ্যেই পারস্পরিক সম্মানবোধ ও রাজনৈতিক নৈতিকতা বজায় থাকে।

বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা বলেন, পেশাজীবীরা সাধারণত নির্দিষ্ট পরিসরে কাজ করেন। কিন্তু একজন রাজনীতিবিদ যেমন সাধারণ মানুষের সঙ্গে চায়ের দোকানে বসতে পারেন, তেমনি রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় বঙ্গভবনেও অংশ নিতে পারেন। এ ধরনের গুণাবলি ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি বিএনপিতে রয়েছে।

অন্যদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সংবিধানে এ বিষয়ে স্পষ্ট বিধান রয়েছে। রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত দলই আলোচনার মাধ্যমে নেবে। দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হলে প্রার্থীও দলেরই হবেন। এরপর নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে বিষয়টি জাতীয় সংসদে ভোটের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে। রাষ্ট্রপতির মনোনয়ন বিএনপির ভেতর থেকেই হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।

তবে ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় রাজনৈতিক বলয়ের বাইরে থাকা কোনো অরাজনৈতিক ব্যক্তির রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনাও নানা সমীকরণের ওপর নির্ভরশীল। পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন স্থায়ী কমিটি থেকেই।

/এসআইএন


Logo