ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম
মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করায় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার নিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানের পদত্যাগের পর শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সংসদের শপথকক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ উদ্দিন আহমদ নিজেই তা নিশ্চিত করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদের দফা ৩ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৫টা ১ মিনিটে আমার নিকট পদত্যাগপত্র দাখিল করেছেন। পদত্যাগপত্রটি আমি গ্রহণ করেছি।
এরইপ্রেক্ষিতে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করার কথা জানান। একইসঙ্গে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে এ সংক্রান্ত রেকর্ড সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেন।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মতো একটি গুরুতর ঘটনার সাথে দেশের ভালো-মন্দ জড়িত উল্লেখ করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, 'রাষ্ট্রপতি একজন মানুষ, তিনি অসুস্থ হতেই পারেন। তিনি রোগেরও নাম প্রকাশ করেছেন। লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে তিনি কী কী রোগে ভুগছেন এবং মাঝে মাঝে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। যেখানে তিনি নিজেই এটি দাবি করেছেন। এজন্য ডাক্তারের সার্টিফিকেটের কোনো প্রয়োজন নেই। সুতরাং, আমরা আশা করি, এ পদত্যাগের ফলে সকল ধোঁয়াশা পরিষ্কার হলো। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা কোনো ধরনের বিরূপ মনোভাব কিংবা কনফিউশন যাতে এইসব ব্যাপারে না ঘটে।'
বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন 'মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও বর্তমানে জনগণের ভোটে যে সরকার নির্বাচিত হয়েছে, তার প্রতি তিনি সবসময়ই সমর্থন ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন বলে আমার মনে হয়' বলে মন্তব্যও করেছেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
উল্লেখ্য, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মৃত্যু, পদত্যাগ, শারীরিক অসামর্থ্য বা অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ওই দায়িত্ব পালন করেন। হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালনের সময় স্পিকারের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব সামলাবেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে মো. সাহাবুদ্দিনের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিলে। অর্থাৎ, তার মেয়াদের আরও প্রায় এক বছর নয় মাস বাকি ছিল।
/এমএন