কম্বোডিয়ায় চাকরির প্রলোভনে নারী পাচার, মূলহোতা গ্রেফতার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
কম্বোডিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে পাচার, জোরপূর্বক পাসপোর্ট ও অর্থ নিয়ে নেওয়া, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে বাধ্য করার অভিযোগে চক্রের মূলহোতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবু তালেব স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সিআইডি।
সিআইডি’র মানবপাচার শাখা (টিএইচবি) ইউনিট গত ২১ জুলাই বিকেলে ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি রাজবাড়ী জেলার কালুখালী থানার খাগজানা গ্রামের মো. সিরাজের ছেলে মো. রুবেল (২৯)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আর্থিক সংকটে থাকা ভুক্তভোগী এক নারী স্থানীয় একটি এনজিও থেকে ঋণ নেওয়ার সময় ওই এনজিওর কর্মী রুবেলের সঙ্গে পরিচিত হন। পরে রুবেল তাকে কম্বোডিয়ায় কাস্টমার কেয়ার সার্ভিসে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখান এবং বিদেশে পাঠানোর আশ্বাস দেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, রুবেলের পরামর্শে ভুক্তভোগী এনজিও থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নেন। পরে সেই টাকা ও তার পাসপোর্ট রুবেল নিজের কাছে রেখে দেন। এরপর বিদেশে পাঠানোর কথা বলে ধাপে ধাপে আরও অর্থ নেওয়া হয়। বিভিন্নভাবে ধারদেনা করে ভুক্তভোগী অভিযুক্তের ব্যাংক হিসাবে দুই লাখ টাকা পাঠান। সব মিলিয়ে তার কাছ থেকে চার লাখ টাকা নেওয়া হয়।
এরপর ২০২৫ সালের আগস্টে ভুক্তভোগীকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর চক্রের সদস্যরা তার পাসপোর্ট ও সঙ্গে থাকা অর্থ জোর করে নিয়ে নেয়। পরে তাকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করে অনিচ্ছাকৃত কাজ করানো হয় এবং তার উপার্জনের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
অভিযোগ থেকে আরও জানা যায়, একপর্যায়ে ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। দেশে ফিরতে চাইলে প্রাণনাশ ও অন্য দালালের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
নির্যাতন থেকে বাঁচতে ভুক্তভোগী দেশে ফেরার চেষ্টা করেন। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম, ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থাগুলোর সহায়তায় তিনি গত ১ জুলাই বাংলাদেশে ফেরেন। দেশে ফিরে আইনি সহায়তা নিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
তদন্তে ভুক্তভোগীর তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ, নথিপত্র ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে সিআইডি রুবেলকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালতের নির্দেশে তার জবানবন্দি নেওয়া হয়।
সিআইডি জানিয়েছে, মামলার অন্য অভিযুক্ত, মানবপাচার নেটওয়ার্ক, আর্থিক লেনদেন, বিদেশে থাকা সম্ভাব্য ভুক্তভোগী এবং দেশি-বিদেশি সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। একই চক্রের মাধ্যমে আরও কোনো বাংলাদেশি একইভাবে পাচারের শিকার হয়েছেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় বিদেশে চাকরির প্রলোভনে প্রতারিত না হয়ে সরকার অনুমোদিত বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি। পাশাপাশি, বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা, মানবপাচার বা নির্যাতনের তথ্য পেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সিআইডিকে জানানোর অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।