×
Logo

জাতীয়

সংবিধান সংশোধন নিয়ে বিতর্ক: ভবিষ্যৎ কী?

আরিফুর রহমান সবুজ

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম

সংবিধান সংশোধন নিয়ে বিতর্ক: ভবিষ্যৎ কী?

সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়া-না নেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমদিন থেকেই উত্তপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। এ নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের বিতর্ক থামছেই না।  

সময় গড়িয়েছে, আর শেষ হয়েছে সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন ডাকার নির্ধারিত সময়। এর মধ্যে গত সোমবার জাতীয় সংসদে গঠন করা হয় সংবিধান সংশোধন কমিটি। বিরোধী দলকে কমিটিতে নাম দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু তা প্রত্যাখান করে ওয়াক আউট করে সংসদ থেকে। 

সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক তর্ক থাকবেই। তবে সাংবিধানিক নির্দেশনা মানতে বাধ্য সংসদ। বিতর্ক এড়াতে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের পক্ষে তারা।

বাংলাদেশ আইন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান খান বলেছেন, এভাবে আদেশের মাধ্যমে গণভোট করার কোনও সুযোগ আছে, সংবিধান কি সেটার অনুমতি দেয়— এই প্রশ্ন একটা সময় আসবেই। কারণ, ওই সময় আমাদের সংবিধানে গণভোটের অস্তিত্ব ছিল না। এই বিতর্ক যখন আসবে, তখন যত সংস্কারই হোক, সবগুলোই কিন্তু আপনার অবৈধ হওয়ার একটা সুযোগ তৈরি হবে। আদালতে একটা সময় কেউ না কেউ চ্যালেঞ্জ করবেই, ওই ঝুঁকিতে আমরা কেন যাব?

সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে জুলাই জাতীয় সনদের পাশাপাশি ত্রয়োদশ সংশোধনীর রিভিউ এবং পঞ্চমদশ সংশোধনী বাতিলের রায়ের নির্দেশনা আমলে নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ কাজী জাহেদ ইকবাল বলেন, সংবিধানের ১৩তম সংশোধনী যে পর্যায়ে ছিল, ওইখানে সংবিধানের যে রূপ ছিল এখন ওই রূপে সংবিধান আছে। সুতরাং সেখান থেকে পুরো ব্যাপারটা যখন পরিবর্তন করা হবে তখন কি কি পরিবর্তন আসলে আমাদের দরকার হবে এবং করলে এই জাতির যে ঐকমত্য বা রাজনৈতিক দলগুলো যে ঐকমত্যে পৌঁছেছিলেন, এখন তাদের সংসদে বিতর্ক করে বা আলোচনা করে সমাধান করতে হবে। 

তবে ৮ম সংশোধনী অনুযায়ী সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিবর্তন করা যাবে না। সেক্ষেত্রে শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন হলে এর ভবিষ্যৎ প্রশ্ন থেকেই যাবে। 

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শরীফ ভূঁইয়া বললেন, সংশোধনীগুলো যে বারবার আদালতে নিয়ে আসা হচ্ছে, সেটা আনা হলেও সেটাকে যাতে আদালত এই ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করে সেই ব্যাপারে একটা শক্ত যুক্ত হিসেবে বলা যেত যে এটা সংসদের সংশোধনী নয়। বরং এটা সংস্কার পরিষদের সংস্কার।

সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংবিধান আইনি দলিল হলেও রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত৷ তাই এর গতিপ্রকৃতির ওপরেও নির্ভর করবে সংশোধনীর ভবিষ্যৎ।

/এমএন

Logo