এইচএসসি পরীক্ষা কেন পেছানো হয়নি— যে ব্যাখ্যা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম
বৃষ্টির কারণে শিক্ষার্থীদের দাবি সত্ত্বেও এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা পিছিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা এক সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, টানা বৃষ্টিতে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা এক-দুই দিন পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করলেও তা করা হয়নি। এইচএসসি পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা কয়েক দিনের জন্য পিছিয়ে দিতে কী সমস্যা ছিল?
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, চট্টগ্রামে যখন বন্যা হলো, তখন একে একে প্রথম রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, পরে খাগড়াছড়ি, এরপরে পুরো বোর্ডের পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছি। আমরা লক্ষ্য করছিলাম যে বৃষ্টি হচ্ছিলো। আমরা মনিটরিং করছিলাম। মনিটরিংয়ের সময় আমরা ৬৪টি জেলার এসপি, আটটি বিভাগীয় কমিশনার, প্রত্যেকটি বোর্ডের চেয়ারম্যান, ইউএনও— সকলের সাথে কথা বলেছি। আমরা আবহাওয়া কর্মকর্তাদের সাথেও কথা বলেছি। তারা বললো যে বৃষ্টি হবে না। বিকেল ৫টা পর্যন্ত বসে থেকে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম। সকলেই বললো, ওয়েদার ভালো হবে। সেজন্য আমরা পরীক্ষা রেখেছি। সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখতে পেলাম, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের মাঠ পানিতে ভরে গিয়েছে। তবে কেন্দ্র পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সারাদেশে প্রায় দুই হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী জানান, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ ছাড়া দেশের অন্য কোথাও এমন পরিস্থিতির কথা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা জানাননি।
কুমিল্লার ওই পরীক্ষাকেন্দ্রের পরীক্ষার্থীদের বিষয়ে তিনি বলেন, মেয়র, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে একটি পাঁচতলা ভবনে নেওয়া হয় এবং সেখানে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় আ ন ম এহছানুলক হক মিলন জানান, বাংলাদেশে পরীক্ষা পরিচালনার বিদ্যমান ব্যবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন দুর্যোগকালীন সময়ে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে পারে, যে কোনো স্থানে পরীক্ষা হবে কি হবে না, পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্তও নিতে পারেন তারা।
/এমএন