×
Logo

জাতীয়

দৃষ্টির আড়ালে নুরুল ইসলাম বাবুল: শ্রদ্ধায় স্মরণ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম

দৃষ্টির আড়ালে নুরুল ইসলাম বাবুল: শ্রদ্ধায় স্মরণ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে

নুরুল ইসলাম বাবুল; হানাদারের কবল থেকে দেশ মুক্ত করার পর উদ্যোগী হয়েছিলেন অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামে। ত্যাগ, নিষ্ঠা, শ্রম আর সততার পুঁজিতে গড়েছেন শিল্পসাম্রাজ্য। শিল্প খাতকে দিয়েছেন দু'হাত উজাড় করে। দুর্নীতি-অনিয়মেরর বিরুদ্ধে ছিলেন আপোসহীন। বহু শিল্প গড়েও ঋণখেলাপি ছিলেন না এই শিল্পপতি।

আলোর দিশারী হয়ে প্রজন্মকে দেখিয়েছেন পথ। তিনি বিশ্বাস করতেন, সাধারণ মানুষের স্বপ্নও বদলে দিতে পারে একটি দেশের ভবিষ্যৎ।

১৯৪৬ সালের ৩ মে ঢাকার নবাবগঞ্জে জন্ম নেওয়া নুরুল ইসলাম বাবুল দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন ২০২০ সালের এই দিনে। তার ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে যমুনা টেলিভিশনে আয়োজিত স্মরণ সভায় দেশ বরেণ্য এ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তারা।

দৈনিক যুগান্তরের যুগ্ম সম্পাদক বি এম জাহাঙ্গীর বলেন, সবাই উনাকে বলেছিল, করোনার মধ্যে অফিস কইরেন না। কিন্তু তিনি অফিস করার জন্য অস্থির হয়ে গিয়েছিলেন। এর রকম মালিক কি পাওয়া যাবে? হাসপাতালে ভর্তি উনি, এ অবস্থায়ও উনি জানতে চেয়েছেন আমরা বেতন পেয়েছি কি না।

দৈনিকটির নির্বাহী সম্পাদক এনাম আবেদীনের মতে, তার দেখা সাহসী মানুষের মধ্যে নুরুল ইসলাম বাবুল অন্যতম। পৃথিবীর কোনও কিছু তাকে কাঁবু করতে পারতো না।

যমুনা টেলিভিশনের বার্তা প্রধান তৌহিদুল ইসলাম বলেছেন, তিনি আমাদের যা দেখিয়ে গেছেন, শিখিয়ে গেছেন; পুরোপুরি তো আর আমরা করতে পারবো না, আমরা যার যার অবস্থান থেকে সেগুলো যেন অনুসরণ করি, আমরা সততার পথে থাকি।

নুরুল ইসলাম বাবুল মাত্র ৩৯ বছরের কর্মময় জীবনে ৪১টি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার এক অবিশ্বাস্য গল্প রেখে গেছেন আগামীর বাংলাদেশের জন্য।

দৈনিক যুগান্তরের সাবেক সম্পাদক সাইফুল আলম, নুরুল ইসলাম বাইরে যেমন শ্রম দিয়েছেন, প্রতিষ্ঠান গড়েছেন, পরিবারের ক্ষেত্রেও তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠাবান একজন স্বামী, পিতা, অভিভাবক ছিলেন।

পত্রিকাটির বর্তমান সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার বলেন, গত ১৫ বছরে যে ভয়াবহ তাণ্ডব আমরা দেখেছি, সেই রকম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়ও তিনি প্রতাপশালী শাসকদের সামনে দাঁড়িয়ে উচ্চকণ্ঠে নিজেকে জাহির করেছেন এবং বলেছেন আমার পত্রিকা-টিভি চ্যানেল কারও কাছে মাথা বিক্রি করে না।

যমুনা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফাহিম আহমেদ বলেছেন, নুরুল ইসলাম বাবুল চাইতেন যমুনা টেলিভিশন পৃথিবীতে শীর্ষ টেলিভিশন হিসেবে থাকবে। আমরা সেটা ধারণ করেছি, এখনও সেটা ধারণ করে চলি। এখনও আমরা আপোসহীনভাবে চলি।

নুরুল ইসলাম বাবুলের রেখে যাওয়া স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিশাল এ শিল্প গ্রুপকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কঠিন দায়িত্ব পালন করছেন তারই সহধর্মিনী ও যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম।

তিনি বলেছেন, নুরুল ইসলাম বাবুলের ভেতরে একটা জেদ সবসময় ছিল। তার মেধা, শক্তি, বল ছিল। অন্যের সাহায্যে তিনি ভর করে হাঁটতে শিখেন নাই।

এই আলোচনার আগে সকালে বনানীতে শিল্পপতি নুরুল ইসলাম বাবুলের কবর জিয়ারত ও দোয়ায় অংশ নেন পরিবারের সদস্যরা। শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতায় যমুনা টেলিভিশন, দৈনিক যুগান্তরসহ গ্রুপের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

/এমএন

Logo