×
Logo

জাতীয়

যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলামের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম

যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলামের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। করোনা মহামারির সময় আজকের এই দিনে অনন্ত পথের পথিক হন তিনি। পরিবার-পরিজন, স্বজন ও সহকর্মীদের ভাসান শোকের সাগরে। আজ সোমবার (১৩ জুলাই) তার প্রয়াণের ছয় বছর পূর্ণ হলো। দিনটি গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করছে গোটা শিল্প পরিবার।

কিছু মানুষ মৃত্যুর পরও বেঁচে থাকেন তাদের কর্ম, আদর্শ ও সৃষ্টির মধ্য দিয়ে। নুরুল ইসলাম ছিলেন তেমনই এক স্বপ্নদ্রষ্টা, যার চিন্তা, নেতৃত্ব ও কর্মদর্শন আজও পথ দেখায় যমুনা গ্রুপের হাজারও কর্মীকে। তার গড়ে তোলা প্রতিটি প্রতিষ্ঠান, কর্মীদের স্বপ্ন এবং কোটি মানুষের আস্থার মধ্যেই তিনি আজও জীবন্ত।

সফল এই শিল্পপতি পদ্মাপাড়ের বিস্তৃত জনপদ নবাবগঞ্জের কামারখোলা গ্রামে জন্ম নিয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালে কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে গড়ে তোলেন যমুনা গ্রুপ। তার হাত ধরেই প্রতিষ্ঠিত হয় দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় শপিং ডেস্টিনেশন—যমুনা ফিউচার পার্ক।

শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য নয়, সমাজ গঠনেও দিশারী হয়েছিলেন এই আলোকবর্তিকা। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে গণমাধ্যম গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। তার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় দৈনিক যুগান্তর এবং যমুনা টেলিভিশন। দেশের মানুষের আস্থা আর নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছে তারই হাতে গড়া এই প্রতিষ্ঠান।

সত্যের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান, কর্মীদের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসাই ছিল নুরুল ইসলামের নেতৃত্বের মূল ভিত্তি। তিনি বিশ্বাস করতেন, প্রকৃত সাফল্য কেবল ব্যবসায়িক অর্জনে নয়; বরং মানুষের কল্যাণে অবদান রাখার মধ্যেই তার প্রকৃত মূল্য নিহিত। সেই বিশ্বাস ও আদর্শই আজও যমুনা গ্রুপের পথচলার প্রেরণা হয়ে আছে।

যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান সালমা ইসলাম বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ দেখেছিলেন। সে সময় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল নাজুক, অর্থনীতির চাকা ছিল প্রায় স্থবির। এমন পরিস্থিতিতেও তিনি একজন শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে একের পর এক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। মূলত বেকার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতেই এসব প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যেখানে যমুনা ফিউচার পার্ক অবস্থিত, একসময় সেই এলাকায় মানুষের যাতায়াত ছিল খুবই কম। সেখানে শপিং মল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার সময় অনেকেই এটির সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেটিই এখন অন্যতম জনপ্রিয় শপিং কমপ্লেক্সে পরিণত হয়েছে। এমনকি নিপীড়িত ও নির্যাতিত মানুষের কথা তুলে ধরার লক্ষ্যেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন দৈনিক যুগান্তর এবং যমুনা টেলিভিশন।

সালমা ইসলাম বলেন, আজ তার মৃত্যুবার্ষিকীতে বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। একই সঙ্গে তিনি দেশবাসীর কাছে মরহুমের রুহের মাগফিরাতের জন্য দোয়া কামনা করেন।

/এসআইএন

Logo